advertisement
আপনি পড়ছেন

একটি দেশের বাধার কারণে ব্রিকস সংলাপে যোগ দিতে পারেনি পাকিস্তান। গত শুক্রবার বৈশ্বিক উন্নয়ন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের ব্রিকস সংলাপে যোগ দেয় জোটের বাইরের দুই ডজন দেশ। এবারের সম্মেলন আয়োজক চীন ওই সংলাপে পাকিস্তানকে নিতে চাইলেও জোটের আরেকটি সদস্য দেশের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর ডন।

brics p twsd চীন পাকিস্তানকে ব্রিকস সংলাপে নিতে চাইলেও জোটের আরেকটি সদস্য দেশের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

উদীয়মান পাঁচ অর্থনৈতিক শক্তি ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত জোট ব্রিকস বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ যোগানদাতা এ জোট মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১৬ শতাংশের অংশীদার। ব্রিকসের বর্তমান সভাপতি চীন জোটের এবারের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছে।

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্টতা সত্ত্বেও পাকিস্তান কেনো ব্রিকস সংলাপে আমন্ত্রিত হয়নি এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা হাম্মাদ আজহারসহ দেশটির বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও সাংবাদিক। তারা বিষয়টিকে পাকিস্তানের বর্তমান পিডিএম জোট সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোর কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেন।

এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সোমবার কোনো দেশের নামোল্লেখ না করে বলেছে, ‘দুর্ভাগ্যবশতঃ (ব্রিকসের) একটি সদস্য দেশ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ব্লক করেছে।’

ব্রিকস সংলাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণে বাধাদানকারী দেশ ভারত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তেমন ভালো নয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা আশা করি (ব্রিকসের) ভবিষ্যত আয়োজনগুলোতে অন্তর্ভুক্তিতার নীতি অনুসরণ করা হবে এবং সংকীর্ণ ভূরাজনৈতিক বিবেচনাকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বের সার্বিক স্বার্থকে বিবেচনায় রাখা হবে।

সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের জন্য চীনকে অভিনন্দন জানিয়ে পাকিস্তান বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের পক্ষে চীনের ভূমিকাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। চীনের পাশাপাশি পাকিস্তানেরও বৈশ্বিক শান্তি, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে উচ্চকন্ঠ অবস্থান রয়েছে। জি-৭৭ প্লাস চায়না গ্রুপের বর্তমান সভাপতি পাকিস্তান। একইসঙ্গে পাকিস্তান গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (জিডিআই) অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী।

চীন ও পাকিস্তানের লৌহ-ভ্রাতৃত্ব পাথরের মতো অটুট মন্তব্য করে ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সর্বক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে যেতে চায় পাকিস্তান ও চীন।