advertisement
আপনি পড়ছেন

তিউনিসিয়া আসন্ন গণভোটকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গণভোটের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছে দেশটির পাঁচটি রাজনৈতিক দল। এই বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে দলগুলোর নেতারা অভিযোগ করেছে। তাদের বক্তব্য, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করছে সাঈদ সরকার। খবর দ্য নিউ আরব, আফ্রিকা নিউজ।

five tunisia parties blame authorities for violenceতিউনিসিয়ায় গণভোট ঘিরে উত্তেজনা, বিরোধীদের ওপর হামলা

আগামী ২৫ জুলাই নতুন সংবিধানের ওপর গণভোটের দিন ঘোষণা করেছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, গণভোটের তারিখ প্রেসিডেন্ট সাঈদ একতরফাভাবে নির্ধারণ করেছেন। এজন্য তিনি একটি ডিক্রি জারি করেছিলেন, যা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

গত শনিবার দেশটির সোসে শহরে গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের সময় সরকার পক্ষের লোকজন পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। সোমবার আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিক্ষোভে নামা রাজনৈতিক দলগুলো হল- রিপাবলিকান পার্টি, ডেমোক্রেটিক কারেন্ট, ডেমোক্রেটিক ফোরাম ফর লেবার অ্যান্ড লিবার্টিজ, ডেমোক্র্যাটিক মডার্নিস্ট পোল এবং ওয়ার্কার্স পার্টি।

হামলার জন্য নেতাকর্মীরা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এ হামলা সাঈদের রাজনেতিক বিরোধীদের দমন করার প্রচেষ্টা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পায়নি আনাদোলু।

খবরে বলা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে সাঈদের হাতে চলে যাবে চূড়ান্ত ক্ষমতা। এটি কার্যকরভাবে তিউনিসিয়াকে কর্তৃত্ববাদের দিকে ঠেলে দেবে। তিউনিসিয়া এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য এটি ব্যাপক প্রভাব হবে। প্রেসিডেন্টের কার্যনির্বাহী এবং আইনসভার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং সম্ভবত তিনি মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং মিডিয়া আউটলেটগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

গত বছরের জুলাই মাসে সাঈদ ক্ষমতা দখলের অংশ হিসেবে সংসদ স্থগিত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাকে ডিক্রি জারি ও শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে অভ্যুত্থান বলে অভিহিত করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ ২০১৯ সালের শেষের দিকে গণতান্ত্রিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হযন। ২০২১ সালের ২৫ জুলাই তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামপন্থী এননাহদা পার্টির নেতৃত্বে গঠিত সংসদ স্থগিত করেন।