advertisement
আপনি পড়ছেন

আর্থিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় কেবল জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত যানবাহনগুলো সামান্য পরিমাণে তেল পাবে। খবর রয়টার্স।

line for gasতেলের জন্য অপেক্ষমান গাড়ির সারি

সরকারি মুখপাত্র বান্দুলা গুনাবর্ধনে জানান, সোমবার মধ্যরাত থেকে জরুরি পরিষেবা ছাড়া কারও কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে না। কারণ দেশে যতটুকু তেল অবশিষ্ট আছে, তা আমরা জরুরি প্রয়োজনের বাঁচিয়ে রাখতে চাইছি। অসুবিধার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। আশা করি ১০ জুলাইয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

গত কয়েক মাস ধরেই শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধে অক্ষম শ্রীলঙ্কা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। অর্থের অভাবে তারা জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সক্ষমতা হারিয়েছে।

army deployed in petrol pumpতেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী

ফলে শ্রীলঙ্কায় গাড়ির জন্য জ্বালানি কিনতে একেকবারে চার-পাাঁচদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। বোরবার সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, চাইলেই জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে না। তবে গতকাল সোমবার পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়, দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই তেল দেওয়া হবে না। ফলে আজ থেকে রাস্তা কার্যত গাড়িশূন্য হয়ে যেতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে মাত্র এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে। এ অবস্থায় শুধু ট্রেন, বাস, চিকিৎসা পরিষেবা এবং যানবাহনে জ্বালানি দেওয়া হবে, যেগুলো খাদ্য সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।

পর্যটন মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেন, সরকার প্রত্যাশা করছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনা শিগগিরই ফল দেবে। দ্রুতই কলম্বোকে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার অনুমতি দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজে ফিরতে পারবে সবাই।

শ্রীলঙ্কা সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত ভুলের পাশাপাশি কোভিড-১৯-এর কারণে দেওয়া লকডাউন এবং ২০১৯ ইস্টার বোমা হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।