advertisement
আপনি পড়ছেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর কার্যক্রমে ক্ষিপ্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির অভিযোগ, ন্যাটোর নেতারা জোটটির ‘এশিয়ান সংস্করণ’ করতে চাইছেন। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যৌথ মহড়ার আয়োজনও ছিল একই বিপজ্জনক ভূমিকার অংশ। তারা উত্তর কোরিয়ার প্রতি অশুভ দৃষ্টি দিতে চায়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (কেসিএনএ) এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

kim fumio kishida yoon suk yeol biden‘এশিয়ান ন্যাটো’ তৈরির পাঁয়তারা!

কেসিএনএ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রাথমিক নিরাপত্তার দাবি এবং উদ্বেগ উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক ক্ষেত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। তা স্পষ্টতই হবে 'ন্যাটোর এশিয়ান সংস্করণ। এই বিপজ্জনক ভূমিকার জন্য ওয়াশিংটন দায়ী। এটি নতুন স্নায়ু যুদ্ধে উস্কে দেওয়ার পদক্ষেপ।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতারা প্রথমবারের মতো পর্যবেক্ষক হিসেবে ন্যাটোর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে কেসিএনএ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতারা বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। যা হবে ২০১৭ সালের পর প্রথম ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন।

বলা হচ্ছে, তিনটি দেশ আগামী আগস্টে হাওয়াইয়ের কাছে ‘প্যাসিফিক ড্রাগন’ নামে একটি সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ এবং ট্র্যাকিং অনুশীলন মহড়া পরিচালনা করবে।

ন্যাটো হল আগ্রাসনের হাতিয়ার

উত্তর কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর পলিটিক্যাল রিসার্চের গবেষক কিম হায়ো-মিউংয়ে বলেন, ইউক্রেনের সংঘাতের জন্য ন্যাটো দায়ী এবং জোটটির একটি অশুভ লক্ষণ রয়েছে, যা শিগগির উন্মোচন হবে। জোটটি আটলান্টিক প্রশান্ত মহাসাগরের শান্তি ভঙ্গ করবে।

কিম বলেন, ন্যাটো মার্কিন আধিপত্যের কৌশল বাস্তবায়নে ভৃত্যের ভূমিকায় রয়েছে। ন্যাটো আগ্রাসনের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান উভয়ই মার্কিন মিত্র। উত্তর কোরিয়ার হুমকি ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় সিউল-টোকিও একত্রিত হয়েছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে ওয়াশিংটন।

উত্তর কোরিয়া চলতি বছর বৃহত্তম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ রেকর্ড সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।