advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের উদ্বাস্তুদের প্রতি ইসরায়েলিদের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ভিসা বাতিলের হুমকি দিয়েছে কিয়েভ। তারা বলছে, অ-ইহুদি উদ্বাস্তুদের বেলায় তেলআবিবের আচরণের পরিবর্তন না হলে ইসরায়েলি তীর্থযাত্রীদের ভিসা বাতিল করে দেওয়া হবে। খবর মিডল ইস্ট মনিটর।

a jewish convoyইউক্রেনে নামছে ইহুদিরা

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। এখনই কোনো আল্টিমেটাম না দিলেও আলোচনা ব্যর্থ হলে কিয়েভ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভগেন কর্নিচুক।

তিনি বলেন, ইউক্রেন থেকে যেসব শরণার্থী ইসরায়েল গিয়েছিল, তাদের অনেকেই ইসরায়েলে থাকার জন্য অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে। দেশটির তথাকথিত প্রত্যাবর্তন আইনের অধীনে তাদের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ইসরায়েলের এসব পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট বলে মনে করে ইউক্রেন। তারপরও শেষ পর্যন্ত তেলআবিব কিয়েভের কথা শুনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

jews are welcome in israelইহুদিরা সব সময়ই ইসরায়েলে স্বাগত

জানা গেছে, ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি জাতিগত নির্মূলের পর ১৯৫০ সালে ইসরায়েল প্রত্যাবাসন আইনে একটি অভিবাসন নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ নীতি ইসরায়েলের সাথে কোনো সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও সারা বিশ্ব থেকে আসা ইহুদিদের ফিলিস্তিনের যে কোনো অংশে বসতি স্থাপনের অধিকার দিয়েছে। তবে প্রায় ৬ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি শরণার্থীর আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার বৈধ অধিকার থাকলেও ইসরায়েল সেই অধিকার অস্বীকার করেছে।

ওই প্রত্যাবর্তন আইনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ফিলিস্তিনিরা হলেও এর আওতায় পড়ে গেছে ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অ-ইহুদী শরণার্থীরা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনের শরণার্থীরা জায়গা পেলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে হচ্ছে তার ব্যতিক্রম। সেখানে ইউক্রেনীয় ইহুদিদের কোনো সমস্যা হয়নি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদেরকে ইসরায়েলে থাকার অধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার মুখে পড়ে যায় অ-ইহুদি ইউক্রেনীয়রা। বৈষম্যমূলক এ নীতির ফলে দেশটির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে ইউক্রেন।

এর আগেও ইউক্রেন ইসরায়েলের এ ধরনের বর্ণবাদী অভিবাসন নীতির নিন্দা করেছিল। সে সময় ইউক্রেন থেকে অ-ইহুদি শরণার্থীদের গ্রহণ করার জন্য তেলআবিবের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

ইউক্রেন জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো উন্নতি দেখা না গেলে তাদের উমান শহরে বার্ষিক রস হাসানা উৎসবের তীর্থযাত্রীদের ভিসা বাতিল করে দেবে। ইহুদী নববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রতি বছর হাজার হাজার ইসরায়েলি উৎসবটিতে অংশ নিতে ইউক্রেন যায়।