advertisement
আপনি পড়ছেন

২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন, জেসিপিওএ) বাস্তবায়নে কাতারে একটি বৈঠক অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নিয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নিশ্চিত করে বলছে, কাতারের রাজধানী দোহায় ইইউ-কাতারের মধ্যস্থতামূলক আলোচনা বুধবার শেষ হয়েছে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ ইরান। দেশটি বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে বলেছে, কাতার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। এখনও চুক্তি বাস্তবায়নের পথ খোলা রয়েছে। চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। দ্য নিউ আরব।

usa flag iran flagদোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ, ইরান বলছে ইতিবাচক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং এখনও চুক্তিটি বাস্তবায়ন হতে পারে। আমরা একটি বাস্তবসম্মত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি বৈঠকে মধ্যস্থতা করেছেন। থানির সঙ্গে এক ফোন কলে এই মতামত প্রকাশ করেন আবদুল্লাহিয়ান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দোহায় সাম্প্রতিক রাউন্ডের আলোচনার বিষয়ে আমাদের মূল্যায়ন ইতিবাচক। আমরা একটি ভালো, দৃঢ় এবং স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। যুক্তরাষ্ট্র বাস্তববাদী হলে একটি চুক্তি অর্জন করা অবশ্যই সম্ভব।

এই আলোচনার লক্ষ্য হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তিতে ফিরিয়ে আনা, যেটি ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, পারমাণবিক কার্যকলাপ সঙ্কুচিত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

কাতারে আলোচনা শেষ হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিতে ফিরতে ওয়াশিংটনের সম্পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। কিন্তু দোহা বৈঠকে আগের মতোই চুক্তির সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন বিষয়গুলো উত্থাপন করেছে ইরান। এতে বোঝা যায় স্পষ্টতই ইরান চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করতে বা এ বিষয়ে মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নয়।

দোহা আলোচনায় তেহরান আগের মতোই দাবি করেছে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন আগামী ১৩ জুলাই। এই অঞ্চলে তার প্রথম সরকারি সফরের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দোহায় আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হলো।