advertisement
আপনি দেখছেন

বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে বন্ধুদের প্ররোচণায় রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দিতে একজন বলেন, 'থানায় মামলা করতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়েছি। বলতে পারেন পুলিশের কাছে মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।'

nari nirjaton

আদালতে জবানবন্দিতে ওই দুই ছাত্রী বলেন, 'এতোদিন আমরা লোকমুখে পুলিশের নেতিবাচক আচরণ শুনতাম কিন্তু এবার আমরা নিজেরাই পুলিশি আচরণের শিকার। ধর্ষকরা মামলা না করার জন্য অব্যাহতভাবে আমাদের হুমকি দিতে থাকে। হুমকির মুখেই আমরা বনানী থানায় অভিযোগ দিতে যাই। থানাতেও আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়।'

ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই দুই শিক্ষার্থী আদালতে বলেন, 'বনানী থানার ওসি ফরমান আলী কোন কারণ ছাড়া আমাদের ৩ দিন ঘুরিয়েছেন। ধর্ষণের মামলা নিতে রাজি হননি। অভিযোগ দিতে প্রতিদিন সকালে থানায় যেতাম। ডিউটি অফিসারের সামনে ঘণ্টাখানেক বসে থাকতাম। এরপর ওসি আমাদের ডাকতেন। এরপর উনি একাই তার রুমের দরজা লাগিয়ে আমাদের মুখে ধর্ষণের বর্ণনা শোনেন। বিভিন্ন অশ্লীল প্রশ্ন করে বিব্রত করতেন।'

ওই দুই শিক্ষার্থী বলেন, 'আব্দুল মতিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, তোমরা প্রতিবাদ করোনি কেন? হোটেলে কেন? আগে এভাবে কোন কোন হোটেলে গিয়েছি এরকম অনেক অশ্লীল প্রশ্ন করেন। এমন অশ্লীল প্রশ্নে আরেক দফা ধর্ষণের মতো পরিস্থিতিতে পড়েছি।'

'খোলামেলা ঘটনাগুলো বলতে না চাইলে পুলিশ বলেন ধর্ষণের মামলা করতে হলে সব খোলাখুলি বলতে হবে। ওসি বলেন, তোমরা ভালো মেয়ে না। ধনীর ছেলেকে ফাঁসাতে ধর্ষণ মামলা করছো।' এভাবেই বলেন ওই দুই তরুণী।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ছাত্রীরা বলেন, 'আমাদের মতো অন্য ধর্ষিতারা যেন থানায় গিয়ে এমন বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয় এমনটাই আমরা চাই।'