advertisement
আপনি দেখছেন

গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হওয়ায় নয় দিন কারাবাসের পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের সেই নিরপরাধ কৃষক আব্দুল আজিজ দফাদার (৬১)। মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে যশোরের মুখ্য বিচারিক হাকিম শাহাদত হোসেন তাকে মুক্তির আদেশ দেন। পরে সন্ধ্যায় আদেশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছলে তৎক্ষণাৎ ছাড়া পান তিনি।

abdul aziz jessor

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেলার আবু তালেব গণমাধ্যমকে জানান, নিরপরাধ আব্দুল আজিজকে মুক্তির আদেশ-সংক্রান্ত আদালতের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর দ্রুত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তির পর পুলিশ পাহারায় আব্দুল আজিজকে তার গ্রামের বাড়ি চৌগাছার সিংহঝুলিতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে লোহিত মোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নবকুমার সাহা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলার চার্জশিটে আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি মাঠপাড়া গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজ কারিগরকে। চার্জশিটে যার বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর। ২০১২ সালের ১ মার্চ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করে। এর চার দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে কাতারে চলে যান তিনি। প্রবাসে চলে যাওয়ায় আসামি আব্দুল আজিজ আদালতে গরহাজির থাকেন। ফলে চার নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ৯ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার হন আব্দুল আজিজ।

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অধিকাংশ গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর পরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।

এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব জানান, প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম, গ্রাম একই হওয়ায় ভুলবশত পুলিশ আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে ভুল স্বীকার ও প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে মুক্তি দেন।