advertisement
আপনি দেখছেন

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে এদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

bangladesh navy buirutবিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা

দূতাবাসের হেড অফ চ্যান্সারি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি নিহত না হলেও দেশটিতে অবস্থান করা বংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বৈরুত বন্দরে অবস্থান করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিএনএস বিজয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, আহতদের মধ্যে ৬ জনকে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া বাকি ১৩ জন সামরিক সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএনএস বিজয় নামের ওই জাহাজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মোট ১১০ সদস্য ছিলো জানিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, সন্ধ্যায় বিস্ফোরণ ঘটার সময় অনেকেই জাহাজে ছিলেন না। যার কারণে আহত কম হয়েছেন। এর বাইরে এতে কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত বা আহত হয়নি।

beirut explosion 3রাজধানী বৈরুতে ঘটে জোড়া বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির রাজধানী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে, নিশ্চিত করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান। পাশাপাশি আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এছাড়া একসঙ্গে এত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসায় হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলো। অনেক হাসাপাতালে আর জায়গা না থাকায় তারা রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারছে না।

সংবাদমাধ্যমগুলোতে আরো বলা হয়, বিস্ফোরণ দুটির তীব্রতা এতই বেশি ছিলো যে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে গোটা বৈরুত। এর তীব্রতা অনুভূত হয় দেড়'শ কিলোমিটার দূর থেকেও। বিস্ফোরণের পর পর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ভেঙ্গে পড়ে ঘরবাড়ি। ভয়ে মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে।

আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত এ বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি লেবানন সরকার। তবে প্রাথমিকভাবে এটি বড় কোনো দুর্ঘটনা বলে মনে করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।