advertisement
আপনি দেখছেন

মাইগ্রেনের ব্যথা কতোটা তীব্র ও ভয়ানক হয়, তা কেবল ভুক্তভোগিরাই জানেন। ঠিক কী কারণে ব্যথা ওঠে, তা হয়তো অনেকেই টের পান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে ব্যথা কমানোর উপায় বের করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

migraine pain

মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে চার থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এই সময়ে ব্যথার তীব্রতায় রোগী অনেক সময় কোনো কাজ করারই ক্ষমতা পান না। মাসে কয়েকবার পর্যন্ত মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে। কিছু ওষুধ আছে, যা দ্রুত মাইগ্রেনের ব্যথা কমিয়ে দেয়। সাথে আরো পাঁচটি উপায় আছে, যা অবলম্বন করলে ব্যথার তীব্রতা কমতে পারে।

১. অন্ধকার ও নীরব ঘরে বিশ্রাম

বেশির ভাগ মাইগ্রেনের রোগী আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীল। অর্থাৎ বেশি আলো ও বেশি শব্দ মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্রতর করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হলে অন্ধকার ও নীরব ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে। এতে ব্যথার তীব্রতা দ্রুত কমে যেতে পারে।

২. ঠাণ্ডা অথবা গরম সেক নিতে হবে

মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হলে মাথায় ঠাণ্ডা অথবা গরম ভাপ নেওয়া যেতে পারে। এতে মাইগ্রেনের ব্যথা দ্রুত উপশম হয়। তবে বেশির ভাগ চিকিৎসক ঠাণ্ডা কিছুর সেক নেওয়ার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, বরফ বা ঠাণ্ডা পানি মাইগ্রনের ব্যথা দ্রুত সারিয়ে তুলে।

৩. গভীর মেডিটেশন বা ধ্যান

গভীর মেডিটেশন বা ধ্যান শারীরিক ব্যথা উপশম করে। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, গভীর মনোযোগ দিয়ে মেডিটেশন করলে তা শরীরের নানা উপকারিতা নিশ্চিত করে। এতে মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা দ্রুত কমে যায়। মেডিটেশনের সময় শুধুমাত্র নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। অন্য যে কোনো চিন্তা থেকে মনকে সরিয়ে নিতে হয়।

how to reduce migraine pain

৪. প্রচুর পানি পান করুন

ডেহাইড্রেশন মাইগ্রেন ট্রিগার বা মাইগ্রেন তৈরিকারি। সুতরাং পর্যাপ্ত তরল পান শরীরের পানির ভারসাম্য ও ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণ ঠিক রাখে। পানি পান করার প্রতি অনীহা থাকলে পানিতে লেবু মিশিয়ে নিন। এতে পানির স্বাদ পরিবর্তন হবে এবং পানি পান করা বিরক্তিকর লাগবে না।

৫. চকোলেট, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন পরিহার করুন

চকোলেট, অ্যালকোহল- বিশেষ করে রেড ওয়াইন এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইনকে মাইগ্রেন ট্রিগার হিসেবে ধরা হয়। সুতরাং এগুলো পরিহার করলেও মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা কমে যায়। কখনো সামান্য কফি পান মাইগ্রেনের ব্যথা কমিয়ে দেয়; কিন্তু বেশি কফি আবার মাইগ্রেন তৈরি করতে পারে। সুতরাং ঠিক কী পরিমাণ কফি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, তা বোঝার চেষ্টা করুন।