advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনার শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক ও দ্রুত ছড়াচ্ছে ভারতীয় তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এরইমধ্যে বিশ্বের ১১১টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভ্যারিয়েন্টটি, এই সংখ্যাটা আগামীতে আরো বাড়বে। যার দরুন বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ শুরুর শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

delta variantডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, প্রতীকী ছবি

সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন সম্ভাব্য এই ঢেউয়ের প্রাথমিক পর্যায় ইতোমধ্যেই চলছে। স্বাভাবতই অনেকে জানতে চাইছেন, করোনার এত এত ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ডেল্টা কেন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে। তাহলে জেনে নেয়া যাক, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন।

সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ষেখানে বলা হয়েছে, ডেল্টায় সংক্রমিত রোগীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। অন্য ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে এটির তুলনা করে তারা দেখতে পেয়েছেন, ডেল্টায় আক্রান্তদের শরীরে ভাইরাসটির তুলনামূলক উপস্থিতি ১ হাজার ২৬০ গুণ বেশি।

who logoবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)

গবেষণায় দেখা গেছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট মানুষের শরীরে প্রবেশের ৫-৭ মিনিটের মধ্যে হারে দ্রুত নিজের অনেকগুলো ‘কপি’ করে থাকে। এ কারণে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের শরীরে ভাইরাসটির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। যা আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

এ বিষয়ে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন আশীষ ঝা বলেন, ডেল্টায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের শরীরে অসংখ্য ভাইরাসের উৎপত্তি হয়ে থাকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এমনটি হওয়ার কারণে সংক্রমিতরা দ্রুত কাবু হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

indian variant of coronaডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, প্রতীকী ছবি

ডেল্টা ভ্যরিয়েন্টে আক্রান্তদের থেকে ৬ ফুট দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা করোনার টিকা নেননি তারাই এই ভ্যারিয়েন্টে বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন।

তবে কেবল টিকার মাধ্যমে তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা যাবে না উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, টিকার ডোজ ফাঁকি দিতে সক্ষম ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তাই টিকার ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে এই ঢেউ ঠেকানো যাবে না। এটি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি, বিধিনিষেধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

এসব পদ্ধতি অনুসরণ করায় নিকট অতীতে কয়েকটি দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে বলে মনে করেন তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। তিনি জানান, গোটা বিশ্বকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করে কাজ করছে ডব্লিউএইচও, যার মধ্যে ১টি প্রশাসনিক ও ৫টি সাধারণ অঞ্চল। এর মধ্যে ৫টি অঞ্চলেই বাড়ছে করোনার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

২০২০ সালের শেষ দিকে ভারতে প্রথমবার শনাক্ত হয় ডেল্টা, যার বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.৬১৭। ভারতে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি একের পর এক দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ডেল্টাকে ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্টের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ডব্লিউএইচও।