advertisement
আপনি দেখছেন

ডেঙ্গুর সবচেয়ে ক্ষতিকর এক ধরনে আক্রান্ত হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত রক্তের কণিকা প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দিয়েছেন দেশের বিজ্ঞানীরা।

papaya leaves for dengue2ডেঙ্গুবাহিত এডিস মশা, ফাইল ছবি

এদিন ‘ডেঙ্গু ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য উন্মোচন’ করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা। জিনোমিক গবেষণাগারের গবেষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী দিনকে দিন বাড়ার জন্য দায়ী একটি সেরোটাইপ বা ধরন। ডেনভি-৩ নামের এই ধরনটি সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরনগুলোর একটি।

বিসিএসআইআর চেয়ারম্যান আফতাব আলী শেখ বলেন, এবারের ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় জুলাইয়ে, যা এখনো বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গুর ব্যাপকতা নির্ধারণে ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগীর নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স পরিচালনা করা হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরেই ডেনভি-৩ সেরোটাইপ পাওয়া গেছে।

bcsir dengueঅনুষ্ঠানে বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা

ডেঙ্গুর মিউটেশন নিয়ে তেমন গবেষণা না থাকায় সংক্রমণের প্রভাব চিহ্নিত করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের রক্তের প্লাটিলেট কমার বিষয়টি আগে ধীরগতিতে হলেও এবার দ্রুত নেমে যাচ্ছে, এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার। এ ছাড়া রোগের উপসর্গও ভিন্ন ভিন্ন পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর চারটি সেরোটাইপ শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো- ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩ ও ডেনভি-৪। এর মধ্যে প্রথম দুইটি ডেনভি মহামারি আকার ধারণ করেছিল ২০১৬ সালের আগে। তৃতীয় ডেনভি ২০১৭ সালে শনাক্ত হয়, যা ২০১৯ সালে মহামারিতে রূপ নেয়। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে এবার চতুর্থ ডেনভির ক্ষেত্রেও।

dengue during pregnancyডেঙ্গু পরীক্ষা, ফাইল ছবি

অনুষ্ঠানে জিনোমিক গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, মশার কামড়েই পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারান মশার কারণে। আগামীতে ডেনভি-৫ বা ৬ আসতে পারে, যা অন্যান্যবারের চেয়ে আরো ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুন্সি। এ সময় বিসিএসআইআরের সদস্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ শওকত আলী, সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জাকের হোছাইন ও জিনোমিক গবেষণাগারের ৭ জন বিজ্ঞানীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।