advertisement
আপনি দেখছেন

করোনার সংক্রমণের জন্য যেসব ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন সবচেয়ে বেশি দায়ী, তার মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে ডেল্টা। তবে ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্টের মতো অতিসংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট আগামীতে আরও আসবে না- এমন নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। আজ শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী।

delta ferdauli qadryডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ও ফেরদৌসী কাদরী, ফাইল ছবি

এদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সংলাপে যুক্ত হন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ বা আইসিডিডিআর,বি’র ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী। ‘এশিয়ার নোবেল’ খ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী এই বিজ্ঞানীর সংলাপের আয়োজন করে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন। কলেরার টিকা নিয়ে কাজ করা ফেরদৌসী কাদরী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএউচও) টিকা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

করোনার সংক্রমণ বর্তমানে কমে আসলেও ‘খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই’ বলে মনে করেন ফেরদৌসী কাদরী। অনেক দেশে সংক্রমণ কমে আবার বাড়ার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে সবাইকে। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার গণহারে টিকা দেয়া। বাংলাদেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের মধ্যে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

corona in controlকরোনা প্রতিরোধ, প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী বলেন, মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়লেও টিকাদানের উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।

নারীদের লড়াইয়ের বিষয়ে ফেরদৌসী কাদরী বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই এ লড়াই অনেক কঠিন। এতে ধৈর্য, সহনশীলতা, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া দরকার। কাজের ক্ষেত্রের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হয়, এটি বেশ কঠিন।

নিজেকে ‘মনেপ্রাণে বাংলাদেশি’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, স্বামীসহ পরিবারের এবং মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি আমি। এ ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি’র সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং বিজ্ঞানচর্চার এই কঠিন পথে স্বামীর সার্বক্ষণিক সহযোগিতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।