advertisement
আপনি পড়ছেন

চীনের সামরিক মহড়ায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। আকাশ ও নৌপথে বাইরে বোরোনোর পথ অনেকটাই বন্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় বিমান চলাচলের বিকল্প পথ পেতে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তাইওয়ান

pelosi taiwan address

তাইওয়ানের পার্লামেন্ট সহ-সভাপতি সাই চি-চাং ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন ন্যান্সি পেলোসি

তাইওয়ানের পরিবহন মন্ত্রী ওয়াং কুয়ো-সাই বলেছেন, চীন যে সামরিক মহড়া শুরু করেছে তা আমাদের বাণিজ্য-নির্ভর দেশের জন্য অবরোধের শামিল। জলপথে চীনের সামরিক মহড়া এলাকা পরিহার করে যাতায়াত সম্ভব হলেও আকাশপথে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাইওয়ানের অভিযোগ অস্বীকার করে চীন বলেছে, চীনের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের জলপথে কোনো অবরোধ আরোপ করা হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এড়িয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিমান চলাচলের বিকল্প পথ খুঁজে পেতে প্রতিবেশি জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে কথা বলছেন তাইওয়ানের কর্মকর্তারা।

এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে পাঠানো এক নোটে চীনা সামরিক বাহিনীর মহড়ার কথা উল্লেখ করে তাইওয়ানের আশেপাশে ‘বিপজ্জনক এলাকায়’ বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়। ওই নোটে তাইওয়ানের কাছাকাছি আকাশপথে ছয়টি এলাকাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত করা হয়। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সব এলাকা পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের সামরিক মহড়া তাইওয়ানের আকাশ ও জলসীমা লঙ্ঘন করছে। প্রজাতন্ত্রী চীনের (তাইওয়ানের অফিসিয়াল নাম) সশস্ত্র বাহিনী সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমরা যুদ্ধ করতে উৎসাহী নই, তবে যুদ্ধ এলে পিছপা হবো না।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন দখল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাইওয়ানে চীনের যে কোনো প্রকার দখল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বিরাট প্রভাবিত করবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে পৌঁছার পর চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) পুর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল শি যি তাইওয়ানের চারপাশে এবং সংলগ্ন জলসীমা ও আকাশসীমায় লাইভ ফায়ার মহড়া শুরুর ঘোষণা দেন।

মহড়ায় ওয়ারহেডবিহীন মিসাইল ব্যবহার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাইওয়ানের দিক থেকে কোনোরকম নেতিবাচক পদক্ষেপ এলে সেটা ঠেকাতে এ মহড়া শুরু হয়েছে। এছাড়া (আগামীকাল) বৃহস্পতিবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে ছয়টি এলাকায় সামরিক মহড়ার কর্মসূচি রয়েছে।

চীনের সেন্ট্রাল টেলিভিশন জানিয়েছে, তাইওয়ানের তিনদিকে পিএলএ ইস্টার্ন কমান্ডের মহড়া চলছে। এছাড়া পিএলএ বিমান বাহিনী তাইওয়ান এলাকার আকাশে প্রাধান্য (এয়ার সুপ্রিমেসি) প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বিমান বাহিনীর চেংদু জে-২০ জঙ্গিবিমান এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি চীনের মিসাইল ফোর্সেস জিয়ামেন ও ফুজিয়ান প্রদেশে লাইভ ফায়ার মহড়া অব্যাহত রেখেছে।

স্যাটেলাইন থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, পিএলএর সামরিক মহড়া এলাকা তাইওয়ানের সার্বভৌম সমুদ্রসীমা (সভরেন টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস) ও অভ্যন্তরীণ জলসীমা (ইন্টারনাল ওয়াটারস) দুটোরই ভেতরে পড়েছে। এতে করে তাইওয়ান কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে।

তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন নিজেরাই প্রমাণ করেছে যে তারা প্রণালীর দুই পাড়ের সম্পর্কের প্রশ্নটি শান্তিপূর্ণ উপায়ের পরিবর্তে শক্তি দিয়ে নিষ্পত্তি করতে চায়। আমাদের সীমানার চারপাশের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।