আপনি পড়ছেন

দখলকৃত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক প্ল্যান্ট ছেড়ে যেতে রাশিয়াকে বাধ্য করতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউরোপের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সবাইকে এ পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খবর আল জাজিরা।

ukrainian president volodymyr zelenskyইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি

নিয়মিত ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, জাপোরিঝিয়া থেকে দখলদারদের তাড়াতে পুরো বিশ্বকে অবিলম্বে সক্রিয় হতে হবে। কারণ সেখান থেকে রাশিয়ানদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারই পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। অন্যথায় বড় ধরনের বিপদে পড়ে যাবে ইউরোপসহ পুরো বিশ্ব।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাপোরিঝিয়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে (এনপিপি) রাশিয়া আবারও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে ইউক্রেন। এরপরই জেলেনস্কি এক ভাষণে এ কথা বলেন।

zaporizhzhia nuclear power plantজাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মোনাস্টিরস্কি বলেছেন, কিয়েভ ওই এলাকা থেকে এরই মধ্যে লোকজন সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। কারণ প্ল্যান্টটি এখন কেবল শত্রুদের হাতেই নয় বরং অশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদেরও হাতে রয়েছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেতে পারে। রাশিয়ানরা সেখানে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে যে ট্র্যাজেডি ঘটতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন।

এর আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান তাদের নিরাপত্তার জন্য ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক ভাষণে বলেন, আমি উভয় পক্ষকে সহযোগিতা করার জন্যই বলছি আইএইএ’র একটি মিশনকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিন, যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।

পারমাণবিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব উল্লেখ করে গ্রসি আরো বলেন, আইএইএ ইউক্রেন ও রাশিয়ার উভয় পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আপডেট পেয়েছে, তবে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই ছিল পরস্পরবিরোধী।

এদিকে জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ প্ল্যান্টের যে কোনও ক্ষতি এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও ‘বিপর্যয়কর পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে। তাই পারমাণবিক প্ল্যান্টের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এমন যে কোনো পদক্ষেপ এড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটিই ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই রুশ সেনারা এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। প্ল্যান্টটিতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। ইউক্রেন রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনের সৈন্যরাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেলের মজুত লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর