advertisement
আপনি পড়ছেন

করোনা মহামারিতে পুরো দুনিয়া যখন পর্যুদস্ত, তারই মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ফেলেছে বেকায়দায়। এতে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বেড়ে গেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এতে দেশে দেশে আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। বেড়েছে ক্ষুধায় মৃত্যুও। বলা হচ্ছে, ক্ষুধার কারণে বর্তমান বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে মারা যাচ্ছে একজন মানুষ। আজ মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক খোলা চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে বিশ্বের ৭৫টি দেশের ২৩৮টি এনজিও। খবর এএফপি।

un food bd00দেশে দেশে বেড়ে গেছে ক্ষুধার্ত মুখ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনকে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মতো বিশ্বখ্যাত এনজিওগুলো। খোলা চিঠিতে সংস্থাগুলো এসব মৃত্যু ঠেকাতে ও ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার জন্য অতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।

খোলাচিঠিতে সংস্থাগুলো হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিশ্বজুড়েই অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ক্ষুধা। এই পরিস্থিতির লাগাম টানা জরুরি।

এনজিওগুলোর দাবি, বিশ্বজুড়ে ৪৫টি দেশে ৫ কোটির বেশি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ চরম ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা এখন ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। বিশ্বে প্রতিদিন চরম ক্ষুধা নিয়ে ১৯ হাজার ৭০০ মানুষ মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ, বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে ক্ষুধায় একজনের মৃত্যু হচ্ছে।

খোলা চিঠিতে সই করেছেন যুদ্ধের কারণে দুর্ভিক্ষের শিকার ইয়েমেনের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়েমেন ফ্যামিলি কেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মোহান্না আহমেদ আলী। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই এখন কৃষি খাত আধুনিক। ফসল উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তারপরও একুশ শতকে এসে খাদ্য সংকটে ভুগছি আমরা। দুর্ভিক্ষ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে আমাদের, যা খুবই দুঃখজনক।

সংকট নিরসনে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আহমেদ আলী। তার দাবি, এমন সংকটে চুপ করে থাকলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হবে। তাই অতিদ্রুত ক্ষুধার্ত মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ বাড়াতে হবে।