advertisement
আপনি পড়ছেন

মামলার শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন আদনান সৈয়দ। ২৩ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবাসের পর গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালত ওই বিচারে সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। আদনানের বিরুদ্ধে তার সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। খবর বিবিসি ও আলজাজিরা।

adnanমুক্তির পর আদনান সৈয়দ

১৯৯৯ সালে যখন আমেরিকান মুসলিম আদনানের বিরুদ্ধে তার প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তখন তিনি মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় তার সাবেক প্রেমিকা হে মিন লিকে নিখোঁজ হয়ে যান। একমাস পর নিকটস্থ একটি সিটি পার্কে তার কবর আবিষ্কৃত হয়।

তদন্তে দেখা যায়, হে মিন লিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তখন প্রাথমিক সন্দেহভাজন হিসেবে আদনানকে গ্রেপ্তার করে। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। ওই ঘটনা ও মামলা সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছিল।

adnan and hae min leeআদনান সৈয়দ ও হে মিন লি

স্কুলছাত্র হিসেবে জেলে ঢোকা আদনানের বয়স এখন ৪২ বছর। মামলার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তিনি নির্দোষ। এতদিন তার সে কথায় কর্ণপাত না করলেও গত সোমবার বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকে মুক্তি দেন আদালত।

বাল্টিমোরের সার্কিট কোর্টের বিচারক মেলিসা ফিন আদনানকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তার নিজ বাড়িতে ‘বন্দি’ থাকার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে হে মিন লি হত্যার জন্য একটি নতুন বিচারের তারিখ চাইবে নাকি ৩০ দিনের মধ্যে মামলাটি খারিজ করবে।

প্রসিকিউটররা জানান, দীর্ঘ তদন্তে দেখা যায়, ওই হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য আরও দুজন সন্দেহভাজন ছিলেন। তারা কেউ আদালতে জবানবন্দি দেননি। আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করেন। অবশেষে গত সোমবার আদনানের মুক্তির ব্যাপারে রায় দেন বিচারক।

১৯৮০ সালের ২১ মে বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ডের একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে আদনান সৈয়দের জন্ম হয়। স্কুল শেষ হতে না হতেই তিনি জড়িয়ে পড়েন এ মামলায়। বিষয়টি নিয়ে ২০১৪ সালে ‘সিরিয়াল’ পডকাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিক ও রেডিও ব্যক্তিত্ব সারাহ কিনিগ মামলাটির ব্যাপারে আলোকপাত করলে বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পডকাস্টে সারাহ সন্দেহ প্রকাশ করেন, হয়তো আদনান দোষী ছিলেন না। এভাবে তাকে নিয়ে বই লেখা হয়, প্রকাশ করা হয় ডকুমেন্টারি। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে পুনরায় বিচারকার্য শুরু করার দাবি উঠতে থাকে।