advertisement
আপনি পড়ছেন

রাশিয়া থেকে অচিরেই আরও চারটি সুখোই-৩০এসএম জঙ্গিবিমান পাচ্ছে মিয়ানমার। কয়েকদিনের মধ্যে এসব জঙ্গিবিমান হস্তান্তর করা হবে। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের তথ্যমন্ত্রী জ মিন তুন গতকাল এ কথা জানিয়েছেন।

myanmar russia su30smকয়েকদিনের মধ্যে রাশিয়া চারটি সুখোই-৩০এসএম জঙ্গিবিমান সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার

জ মিন তুন বলেন, মিয়ানমারের সরকার প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার ইরকুৎস্ক এভিয়েশন প্লান্টে এসব জঙ্গিবিমান প্রস্তুত ও পরীক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই এগুলোর ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।

রাশিয়া থেকে ছয়টি জঙ্গিবিমান কিনতে ২০১৮ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করে মিয়ানমার। ২০ কোটি ৪ লাখ ডলারের এ চুক্তির আওতায় দুইটি জঙ্গিবিমান চলতি বছরের মার্চে সরবরাহ করেছে রাশিয়া।

দীর্ঘদিন ধরে রুশ সমরাস্ত্রের অন্যতম ক্রেতা মিয়ানমার। গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানের পর বর্মী সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং অল্প যে কয়টি দেশে যেতে পারছেন, তার অন্যতম হলো রাশিয়া। ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে বর্মী জান্তা এ পর্যন্ত তিনবার রাশিয়া সফর করেছেন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, ছয়টি সুখোই-৩০এসএম ছাড়াও ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে রাশিয়া মিয়ানমারের কাছে ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। এরমধ্যে রয়েছে- একাধিক মিগ-২৯ ফাইটার জেট, ইয়াক-১৩০ কমব্যাট ট্রেইনার উড়োজাহাজ, এমআই-১৭, এমআই-২৪ও এমআই-৩৫ কমব্যাট হেলিকপ্টার ও অন্যান্য অস্ত্র।

বর্মী জান্তা এমন সময় সুখোই-৩০এসএম জঙ্গিবিমান সরবরাহের আগাম সংবাদ ঘোষণা করল যখন মিয়ানমারের মানুষ সাগাইং প্রদেশে বিমান হামলায় নিহত ১১ জন স্কুল শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক পালন করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার সাগাইংয়ের একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণে এসব শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পুর্বাঞ্চলের কায়াহ ও কারেন রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় লক্ষ্য করে অন্তত আটটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গিবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টারের উপর নির্ভর করছে বর্মী সামরিক বাহিনী।