আপনি পড়ছেন

চীনে রাষ্ট্রীয় একটি টেলিভিশনের এক উপস্থাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন ঝু জিয়াওকুয়ান নামে এক নারী। কিন্তু গত ১০ অগাস্ট তার আবেদন খারিজ করে দেয় বেইজিংয়ের আদালত। এর কারণ ছিল, একইরকম যৌন হয়রানির শিকার হওয়া অনেক নারীকে প্রকাশ্যে এসে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ারে অনুপ্রাণিত করছিল মামলাটি।

flag chinaচীনের পতাকা

দ্য সিঙ্গাপুর পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝু জিয়াওকুয়ানের এই মামলাকে চীনে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

ওই মামলার প্রভাব ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং অফলাইনেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিচারের শুরুতে ২০২১ সালে ঝুকে সমর্থন করার জন্য অসংখ্য নারী আদালতের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন এবং সেখানে পুলিশ ছিল নীরব।

সেই সময়ে মামলাটির বিষয়ে যে বিতর্ক চলছিল তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিল নিয়ন্ত্রিত। শুধু কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সহকালে ছোট করে প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা নারী অধিকারের কার্যক্রম নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরে।

চীন ও অন্যান্য দেশে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডিজিটাল প্লাটফর্ম ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সংগঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য, নানা নিপীড়নের শিকার নারীদের বিকল্প কণ্ঠস্বর শোনানো এবং সচেতনতা ও নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা। তাই চীনের ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি যৌন হয়রানি আসলে কী, তা নিয়ে চলমান সামাজিক বিতর্ক।

নারীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে আইন কার্যকর হয় ২০০৫ সালে। সেই আইনে ‘যৌন হয়রানি’ শব্দগুচ্ছটি নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।

২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনের আদালতগুলো ৫ কোটিরও বেশি সিদ্ধান্তের মধ্যে মাত্র ৩৪টি যৌন হয়রানির সিদ্ধান্ত দেয়। এসব ঘটনায় মাত্র দুজন ভুক্তভোগী মামলা করেন, যা পরে প্রমাণের অভাবে খারিজ হয়ে যায়।

চীনে স্থানীয় হয়রানি বিরোধী আইনও পাশ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো সবসময় অনুসরণ ও কার্যকর করা হয় না।

চীনের সুপ্রিম পিপলস কোর্ট ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত যৌন হয়রানিকে দেওয়ানি মামলার কার্যক্রম হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এই দেওয়ানি মামলাগুলোর মধ্যে প্রথমটি ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই সমাধান করা হয়। ঝু জিয়াওকুয়ানের মামলাকে যুগান্তকারী হিসাবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি সম্ভবত একই সুরে ভবিষ্যতে দেওয়ানি বিচারকে প্রভাবিত করবে।

২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী তাদের অধ্যাপকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সেই হয়রানি মোকাবেলার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ২০২০ সালে কার্যকর হওয়া নতুন আইনি ধারায় এই ব্যাপারে কলেজগুলোকে উদ্যোগ নিতেও তেমনটি উৎসাহিত করা হয়নি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর