আপনি পড়ছেন

মিশরীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট মুসলিম স্কলার ইউসুফ আল-কারজাভি আর নেই। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ৯৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন তিনি, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। তার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের বরাতে এ সংবাদ জানিয়েছে দ্য পেনিনসুলা ও আল আরাবিয়া।

yusuf al qaradawi 1ইউসুফ আল কারজাভি

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) প্রধান কারজাভির টুইটার অ্যাকাউন্টে বলা হয়, ইউসুফ আল কারজাভি মহান প্রভুর রহমতের কাছে চলে গেছেন। ইসলামের বিধান ব্যাখ্যা করা এবং মুসলিম জাতিকে রক্ষা করার জন্য তিনি তার পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং নবী, সত্যবাদী, শহীদ ও ধার্মিকদের সঙ্গী করুন।

কারজাভি আল জাজিরাতে সম্প্রচারিত তার অনুষ্ঠান ‘শরিয়া ও জীবন’-এর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বিশ্বব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শ্রোতা ৪০-৬০ মিলিয়ন।

ড. কারজাভি ১৯২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মিশরের উত্তর নীলনদী তীরবর্তী সাফাত তোরাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি বাবাকে হারান। মাত্র ১০ বছর বয়সেই সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ করেন এবং কোরআন তিলাওয়াতের নীতিমালা, তাজবিদের ওপর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

১৯৫৩ সালে তিনি পৃথিবীখ্যাত মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আল দ্বীন অনুষদ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আল আজহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ার সময়ই তার প্রতিভায় চমৎকৃত হয়ে শিক্ষকরা তাকে আল্লামা খেতাবে ভূষিত করেন। 

ড. কারজাভি মিশর সরকারের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বোর্ড অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স এর একজন সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি আলজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ইসলামিক সায়েন্টিফিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি জেদ্দাস্থ ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) ফিকাহ অ্যাকাডেমি, মক্কাভিত্তিক রাবেতা আল আলম আল ইসলামির ফিকাহ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি ফর ইসলামিক কালচার অ্যান্ড রিসার্চ জর্ডান, ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার অক্সফোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফতোয়া অ্যান্ড রিসার্চের প্রেসিডেন্ট এবং কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্নাহ ও সিরাত স্ট্যাডিজ সেন্টারের পরিচালক ছিলেন।

প্রফেসর ড. শায়েখ ইউসুফ আল কারজাভি আধুনিক বিশ্বের একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ। ইসলামের সঠিক ও স্বচ্ছ জ্ঞান চর্চা এবং এর আলোকে আধুনিক জটিল সমস্যার সমাধানে অসামান্য অবদানের জন্য তার খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। অন্যদিকে ইসলামি আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি বারবারই ইসলাম বিদ্বেষী স্বৈরাচারী শাসকদের রোষানলে পড়েছেন। ১৯৪৯, ১৯৫৪-১৯৫৬ ও ১৯৬৫ সালে কারাবরণ করেন তিনি।

আরব ও মুসলিম দেশসমূহের প্রতি পাশ্চাত্য বিশ্বের বিশেষ করে আমেরিকা ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতির একজন কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত কারজাভি। একই সাথে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ, একপেশে ও নিঃশর্ত সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেন কারজাভি।

ইরাকে ইঙ্গো-মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে তার বক্তব্য বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনগণের মতামতকে শাণিত করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছিল। মানবাধিকারের প্রবক্তা ড. কারজাভি নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের স্বপক্ষেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।

এ পর্যন্ত তাঁর অর্ধশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার বই অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাভাষায় প্রকাশিত তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- ইসলামে হালাল-হারামের বিধান, ইসলামের যাকাত বিধান, দারিদ্র বিমোচনে ইসলাম ইত্যাদি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর