আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে দেওয়া গণভোটে প্রত্যাশিত ফল পেয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘ফলাফল পরিষ্কার। রাশিয়ায় স্বাগতম!’ পশ্চিমা বিশ্বের ব্যাপক সমালোচনার পরও স্বল্প সময়ের মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার সাথে এ চারটি অঞ্চলের ঠিকানা জুড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

dmitry medvedev 5দিমিত্রি মেদভেদেভ

রাশিয়ার সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী কি না- এ প্রশ্নে গত শুক্রবার থেকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী গণভোট। মঙ্গলবার ভোট শেষ হওয়ার পর বুধবারই অনুকূলে ফল আসার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। এদিনই বুধবার ইউক্রেনের ওই চারটি প্রদেশের রুশ সমর্থিত প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে পুতিনকে তাদের রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়। এদিকে মস্কোর রেড স্কোয়ারে বিশালাকার ভিডিও স্ক্রিনসহ স্থাপিত একটি বিলবোর্ডে ঘোষণা করা হয়েছে, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন-রাশিয়া।

দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে সম্প্রতি বিভিন্ন স্থান থেকে পিছিয়ে পড়তে শুরু করে রুশ বাহিনী। এর মধ্যেই পাশাপাশি চারটি প্রদেশে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। পশ্চিমা বিশ্ব এর কড়া সমালোচনা করে একে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু রুশ প্রশাসন তাতে কর্ণপাত করেনি। বরং তারা গণভোটের মাধ্যমে এ অঞ্চলগুলো রাশিয়ার সাথে যুক্ত হলে সেগুলো রক্ষার দায়িত্ব ক্রেমলিনের বলে ঘোষণা দেয়। এক্ষেত্রে ‘আত্মরক্ষার্থে’ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেও পিছপা হবে না তারা।

 statesইউক্রেনের চার প্রদেশ

এদিকে ইউক্রেন দাবি করছে, তথাকথিত গণভোটে কেউই ভোট দিতে আসেনি। লোকজনকে বন্দুকের মুখে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্বনেতাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে গভীর রাতে এক ভাষণে তিনি বলেন, আপনাদের স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন সমর্থন এবং আমাদের অবস্থান বোঝার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

৪৩ বছর বয়সী লিউবোমির বয়কো নামের খেরসনের গোলো প্রিস্তানের এক বাসিন্দা বলেন, তারা যা খুশি ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু গণভোটে কেউই ভোট দেয়নি। সামান্য কিছু লোক পক্ষ পরিবর্তন করলেও ভোট দিতে কেউ-ই আসেনি। তারা ঘরে ঘরে ভোট নিতে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ ভোট দিতে বাইরে আসেনি। তবে রাশিয়া দাবি করছে, সবাই স্বেচ্ছায় ভোট দিয়েছে। পুরোপুরি আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতি রেখেই ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোটার উপস্থিতিও ছিল যথেষ্ট।

রাশিয়ার এই নতুন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশ ও সংস্থা রাশিয়ার ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানিয়েছেন, আমরা রাশিয়া ও তাদের সহায়তাকারী ব্যক্তি-সংস্থার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর