আপনি পড়ছেন

ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বহু ভবন ভেঙে পড়েছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম জাভা প্রদেশ। ভূমিকম্পটি ছিল ৫.৬ মাত্রার। কিন্তু এত অল্পমাত্রার কম্পনে কেন এত বেশি ক্ষয়ক্ষতি হলো- তা টিআরটি ওয়ার্ল্ডের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

indonesiaইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প

ভূমিকম্পের পর দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা জাভা প্রদেশের ভেঙে পড়া ভবনের নিচ থেকে শত শত লাশ টেনে তুলছে। কুগেনাং জেলার ভূমিধসে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সাধারণ এই মাত্রার ভূকম্পনে অল্প ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়। কিন্তু এবারের ভূমিকম্পটিতে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে।

মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তি স্থল ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলটি ছিল ফল্ট লাইনের কাছাকাছি। এজন্য এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল অবকাঠামোগুলো ‌দ্রুত ভেঙে পড়েছে।

বলা হচ্ছে, এই ধরনের ভূমিকম্পে সাধারণত শক্ত ভবনগুলোর তেমন ক্ষতি হয় না। তবে কিছু অনুঘটক থাকে, যেগুলোর কারণে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অঞ্চলটির মাটি গঠনের প্রকারভেদ কী, নির্মিত ভবনগুলো কী পদ্ধতি অনুসরণ করেছে ইত্যাদি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ভূমিকম্পে স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য বড় বড় কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউনিভার্সিটাস গাদজাহ মাদার সহকারী ভূতত্ত্ব অধ্যাপক গায়ত্রী মারিলয়ানী মনে করেন, অবকাঠামোগুলোর অধিকাংশই ভূকম্পন প্রতিরোধী পদ্ধতিতে নির্মিত হয়নি। এটাই এই ধ্বংযজ্ঞের প্রধান কারণ। ভূমিকম্পটি যেহেতু মাঝারি আকারের ছিল, সেহেতু এত ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল না।

গায়ত্রী বলেন, আরেকটি কারণ হলো উৎপত্তিস্থল বরাবর জনপদ ছিল। দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি যে এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই এলাকাটি উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি ছিল। জাভার অন্যান্য অংশের তুলনায় মূলত পশ্চিম জাভায় সবেচেয়ে বেশি ভূঅভ্যন্তরীণ ত্রুটি রয়েছে। অনেক সক্রিয় ত্রুটি থাকলেও গবেষণায় তা ধরা পড়েনি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর