আপনি পড়ছেন

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, তারা একটি বৈশ্বিক গ্যাস খাতে বড় শক্তিতে পরিণত হতে চান। এ লক্ষ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করতে পারে এমন জাহাজ কেনার পেছনে তারা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছেন। গতকাল মঙ্গলবার জার্মান দৈনিক বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি এ কথা বলেন। তিনি কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খবর আনাদোলু।

ship fleet of lngবৈশ্বিক গ্যাস শক্তি হতে জাহাজ বহর তৈরি করছে কাতার, ফাইল ছবি

সাদ শেরিদা জানান, এলএনজি পরিবহনের জন্য জাহাজ বহর তৈরিতে তারা এ পর্যন্ত দুই হাজার কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শত শত জাহাজের এই বহর কাতারকে বৈশ্বিক গ্যাস শক্তিতে পরিণত করতে সাহায্য করবে। জাহাজগুলো বর্তমানে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্মিত হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার কাতার জার্মানির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় দেশটিতে প্রতি বছর ২ মিলিয়ন টন এলএনজি পরিবহন করবে কাতার। ২০২৬ সাল থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে। সাদ শেরিদা বলেন, আমরা জার্মানির সাথে এ বিষয়ক এই প্রথম কোনো চুক্তি করেছি। জার্মানিতে কোনো (এলএনজি) টার্মিনাল নেই। তাই একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।

qatar energy ministerকাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি

দীর্ঘদিন আলোচনার পর জার্মানির সাথে এই চুক্তিটি করে কাতার। উল্লেখ্য, জার্মানির বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। তবে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কেনা বাদ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় জার্মানি কাতারের সাথে এ চুক্তি করল।

জার্মানি তার বৃহৎ অর্থনীতির জন্য অনেকাংশেই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তারা রাশিয়ান থেকে গ্যাস আমদানির পুরোপুরি বিকল্প খুঁজে পাওয়ার আশা করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার গ্যাস ও তেলে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এ পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে কাতার নিজেদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করার নানা পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে তাদের বার্ষিক এলএনজি উৎপাদনক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন টন। ২০২৭ সালের মধ্যে সেটি প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ১২৬ মিলিয়ন টনে উন্নীত করতে চায় কাতার।