আপনি পড়ছেন

সিরিয়ার সীমান্ত থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের হটাতে যে কোনো মুহূর্তে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। সম্ভাব্য অভিযানের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা ওই অঞ্চল ছেড়ে যাচ্ছেন। সিরীয় ও রুশ বাহিনী সেখানে নিজেদের ভারী অস্ত্র সমাবেশ করেছে। অভিযান শুরুর অপেক্ষায় সীমান্তের অপর পাড়ে অবস্থান নিয়েছে তুরস্কের সামরিক কনভয়।

syria russia tlsdতাল রিফাত শহরের সড়কে কামান ও ভারি যানবাহন মোতায়েন করেছে রুশ বাহিনী

জানা গেছে, তুর্কি অভিযান এড়ানোর শেষ মুহূর্তের চেষ্টা হিসেবে সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সান্ডার চাইকো কুর্দি সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ডার মজলুম আবদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-শাদ্দাদি এলাকায় মার্কিন বাহিনীর অস্থায়ী ঘাঁটির কাছে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কুর্দি সংগঠন ওয়াইপিজিকে তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকা ছেড়ে আসতে বলা হয়। তুরস্ক সীমান্ত থেকে এম-ফোর মহাসড়ক পর্যন্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন রুশ বাহিনীর প্রধান। কুর্দি কমান্ডার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এ অবস্থায় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কের স্থল বাহিনীর অভিযান অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

এর আগে তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিজ, তাল রিফাত ও আইন-আল-আরব অঞ্চল থেকে কুর্দি গেরিলা ও মিলিশিয়াদের সরে যেতে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এসব অঞ্চল থেকে সিরিয়ান ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ) নামে পরিচিত সরকারবিরোধী বাহিনীরও প্রস্থান চায় তুরস্ক। এ মুহূর্তে সিরিয়ায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আপত্তির কথা জানানো হলে তুর্কি কর্মকর্তারা মস্কোকে অনুরোধ করেন যাতে কুর্দিদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরানো হয়। সিরীয় কর্তৃপক্ষকেও একই অনুরোধ করেছে তুরস্ক।

তুরস্কের সামরিক অভিযানের সম্ভাব্যতা মাথায় রেখে আজ সকাল থেকে কুর্দি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। মানবিজ ও ইরবিলে বিভিন্ন দেশের কনসুলেটে নিযুক্ত কূটনীতিকরা সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় যেতে শুরু করেছেন। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে রুশ বিমান বাহিনীর কমপক্ষে নয়টি উড়োজাহাজের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে ওই অঞ্চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী গত দুদিন ধরে তাদের ‘ইউফ্রেতিস শিল্ড অপারেশন জোনে’ সৈন্য ও অস্ত্র সমাবেশ করছে। তুরস্কের কিলিস থেকে সিরিয়ার এজাজ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে তুর্কি সামরিক কনভয়ের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। একইভাবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে তাল রিফাত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রুশ বাহিনী ভারী অস্ত্র ও কামান মোতায়েন করেছে। ইদলিব অঞ্চলে তুরস্ক সংলগ্ন লাইন অব কন্টাক্টে সিরীয় বাহিনীর কামান ও সাঁজোয়া যানবহর মোতায়েন করতে দেখা গেছে।

ইরবিল ও আঙ্কারার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন অভিযানে ওয়াইপিজি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ছাড়াও কুর্দি অধ্যুষিত অটোনমাস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব নর্থ অ্যান্ড ইস্ট সিরিয়া (রোজায়া) দখলে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুরস্ক। এতে করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে কুর্দিরা যে স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল গঠন করেছিল, তার বিলুপ্তি ঘটবে।