আপনি পড়ছেন

যুদ্ধ চলার মধ্যেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে ইউক্রেনে। এরইমধ্যে কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এ অভিযান শুরুর পর একের পর এক পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন দেশটির সরকারের মন্ত্রী-উপমন্ত্রী ও বিভিন্ন উচ্চপদে আসীন কর্মকর্তারা। খবর বিবিসি।

kirilo adviserজেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া কিরিলো তিমাশেঙ্কো

জানা গেছে, মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টা কিরিলো তিমাশেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। একই দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভাচিস্লাভ শোপালভ, উপ-প্রসিকিউটর জেনারেল ওলেস্কিয়ে সিমোনেঙ্কোও।

জেলেনস্কির শীর্ষ উপদেষ্টা কিরিলো তিমাশেঙ্কো ২০১৮ সালে জেলেনস্কির নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার প্রধান সহকারী ছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এর পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দেখাশোনা করার দায়িত্বেও ছিলেন কিরিলো। তার বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে দামি গাড়ি ব্যবহার ও সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল তার নাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

zelensky 11জেলেনস্কি

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর জন্য অস্বাভাবিক বেশি মূল্যে খাদ্য কেনার অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভাচিস্লাভ শোপালভ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকভের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্তের মধ্যেই মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন শোপালভ। এসব তদন্ত-অভিযানের মধ্যেই উপ-প্রসিকিউটর জেনারেল ওলিস্কিয়ে সিমোনেঙ্কোও পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা জানা যায়নি।

এদিকে তাদের পদত্যাগের আগের দিন ইউক্রেনের অবকাঠামো বিষয়ক উপ-মন্ত্রী ভ্যাসিল লজিন্সকিকে বরখাস্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এমনিতেই দুর্নীতির দীর্ঘ ইতিহাস আছে ইউক্রেনের। যুদ্ধ শুরুর আগে ২০২১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) দেশটিকে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশগুলোর অন্যতম’ বলে উল্লেখ করেছিল।

চলমান যুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের জন্য আবেদন করে ইউক্রেন। এ আবেদনের পর জেলেনস্কিকে জানানো হয়, এই জোটের সদস্যপদ পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত, দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা। তারপরই দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদিয়ালাক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রাথমিক তালিকায় যেসব মন্ত্রী-উপমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নাম উঠেছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্য মন্ত্রী-উপমন্ত্রী-কর্মকর্তাদেরও সরকারি অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

জেলেনস্কির সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল পার্টির প্রধান ডেভিড আরাখামিয়াও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা কারাগারের মুখোমুখি হতে পারেন।

ইউক্রেনীয় সংবাদপত্র ইউক্রেনস্কা প্রাভদার এক খবরে বলা হয়েছে, টিমোশেঙ্কোর পর সুমি, দনিপ্রো, জাপোরিঝা ও খেরসনের চার আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধানও হয়তো পদত্যাগ করতে পারেন।