আপনি পড়ছেন

আইএমএফের ঋণ পেতে কৃচ্ছতার তেতো ট্যাবলেট গিলতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মন গলাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হ্রাসের কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান সরকার। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়গুলোর ব্যয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্ঠার সংখ্যা কমানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

shahbaz sharif governmentমন্ত্রী-উপদেষ্টার সংখ্যা ৭৮ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের গঠিত জাতীয় কৃচ্ছতা কমিটি চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বেশকিছু সুপারিশ করতে চলেছে। আজকের মধ্যে কমিটির সুপারিশ চুড়ান্ত হবে। এরপর তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।

দ্য নিউজ জানিয়েছে, কৃচ্ছতা কমিটি প্রাথমিকভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০ শতাংশ হ্রাসের কথা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি সবকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের ব্যয় ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথাও বিবেচনাধীন রয়েছে।

একইসঙ্গে কমিটি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার মোট সংখ্যা ৭৮ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার কথা ভাবছে। অবশিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের প্রয়োজন হলে বহাল রাখা হবে, তবে সেক্ষেত্রে তাদের বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের কাছ থেকে আরেক দফা ঋণ পাবার সুবিধার্থে পাকিস্তান সরকার কৃচ্ছতার সুপারিশমালা চূড়ান্ত করছে। দাতাদের পক্ষ থেকে চাপ থাকায় সরকারকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এসব শর্তগুলো মেনে নিতে হচ্ছে। সরকারি ব্যয় কাটছাঁটে মন্ত্রীসভার দ্বিধার কারণে গত আড়াই মাস ধরে আইএমএফের সঙ্গে পাকিস্তানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।

জানা গেছে, বেতন-ভাতা, ব্যয় ও মন্ত্রী-উপদেষ্টার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কৃচ্ছতা কমিটি কিছু প্রাদেশিক প্রকল্পের তহবিল ব্যয় বন্ধ রাখা এবং সরকারি গ্যারান্টি ব্যবহার করে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ গ্রহণ নিষিদ্ধ রাখার সুপারিশ করবে।

আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরির জন্য জরুরি ভিত্তিতে কৃচ্ছতা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চলেছে পাকিস্তান। বিষয়টি নিয়ে গতকাল থেকে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ে কৃচ্ছতা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে আজই সুপারিশমালা চূড়ান্ত হবে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, একই ধরনের দায়িত্ব ও এখতিয়ার রয়েছে এমন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিলুপ্ত করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ, নিরাপত্তাসহ মোট মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা পাঁচ অথবা ছয়ের মধ্যে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। যদিও জাতীয় কৃচ্ছতা কমিটি এখনই এমন বড় ধরনের সংস্কারের বিষয়ে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে।

এদিকে জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে সরকার আইএমএফের ঋণ পেতে কৃচ্ছতার মতো তেতো পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং একই সময়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন উপলক্ষে ৩০০ কোটি রুপি খরচ করে বিশাল উদযাপন করছে। পাশাপাশি এমপিদের মাধ্যমে ব্যয়যোগ্য তহবিলের আকার ৩০০ কোটি রুপি বাড়িয়ে ৮ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ৮ হাজার ৯০০ কোটি রুপি করা হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর