আপনি পড়ছেন

গাজা উপত্যকার দক্ষিণে রাফায় ইসরায়েলি হামলা প্রসারিত হওয়ার কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শহরটি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে ১৫ মে, বুধবার ফিলিস্তিনিরা ৭৬তম আল-নাকবা বা বিপর্যয়ের দিবস পালন করছে। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ইহুদিবাদী জঙ্গিরা ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই বিপর্যয়কে স্মরণ করতে প্রতি বছর নাকবা দিবস পালন করা হয়।

76th anniversary of the nakbaইসরায়েলের হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক একটি বার্ষিক মিছিলে অংশ নিয়েছে

বুধবার আল-নাকবা দিবস উপলক্ষে ইসরায়েলের হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক একটি বার্ষিক মিছিলে অংশ নিয়েছে। তারা ১৯৪৮ সালে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ভূখণ্ডে ফেরত যাওয়ার দাবিতে এই প্রতীকী মিছিলে অংশগ্রহণ করে। সে সময় ফিলিস্তিনিরা ‘তাদের স্বাধীনতা দিবস, আমাদের বিপর্যয় দিবস’, ‘আমাদের ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের দাবি ছাড়িনি’ এবং ‘গাজায় হামলা বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। 

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। তার পরেরদিন আল-নাকবা বা বিপর্যয়ের দিবস হিসেবে পালন করে ফিলিস্তিনিরা।  

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা এবং তাদের হারিয়ে যাওয়া গ্রামের নাম সম্বলিত ব্যানার বহন করে। এই মিছিলে ১৯৪৮ সালে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেওয়া হয়। যতদিন পর্যন্ত এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত  ফিলিস্তিনিরা যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বিপর্যয়কে মনে রাখতে পারে সে বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া হয়। 

মিছিলে অংশ নেওয়া মুসা সাগির ফিলিস্তিনের হাওশা নামের একটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৪৮ সালে হাওশা এবং আল-কাসাসির গ্রাম দখলে নেয় ইহুদিবাদী জঙ্গিরা। সে সময় হাওশার জনসংখ্যা ছিল ৪৪০ জন এবং আল-কাসাসিরের ২০০ জন বাসিন্দা ছিল। হাওশার বাসিন্দারা মূলত আলজেরিয়ান। তারা ১৮৮৬ সালে উসমানীয় আমলে এই গ্রামে এসেছিল। 

সাগির বলেছেন, ‘আমাদের দুটি দাবি রয়েছে। প্রথমত, আমাদের নিজেদের ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের অধিকার এবং দ্বিতীয়ত, গাজার ওপর নৃশংস যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান।'   

এদিকে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ওয়ালিদ হামাস নাকবার স্থায়ী তাৎপর্যের উপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এই মিছিলটি এটি স্পষ্ট করে দেয় যে নাকবা আজও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে তা আমরা কখনো ভুলব না এবং আমরা ক্ষমা করব না।'    

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টির সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের শহর ও গ্রাম থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়। সে সময় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ইহুদিবাদী আধাসামরিক বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত জাতিগত নির্মূল, হত্যা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছিল। এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয় ছিল। তাই প্রতিবছর এই দিবসটি স্মরণ করে ফিলিস্তিনিরা। 

সূত্র: দ্য নিউ আরব 

Get the latest world news from our trusted sources. Our coverage spans across continents and covers politics, business, science, technology, health, and entertainment. Stay informed with breaking news, insightful analysis, and in-depth reporting on the issues that shape our world.

360-degree view of the world's latest news with our comprehensive coverage. From local stories to global events, we bring you the news you need to stay informed and engaged in today's fast-paced world.

Never miss a beat with our up-to-the-minute coverage of the world's latest news. Our team of expert journalists and analysts provides in-depth reporting and insightful commentary on the issues that matter most.