শুল্কযুদ্ধে পিছু হটছেন না ট্রাম্প, বিশ্ববাণিজ্যে ফের অস্থিরতার আভাস
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের এই রায়ের পর তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। বরং ভিন্ন আইনের দোহাই দিয়ে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, যেখানে ১৯ শতাংশ শুল্কের কথা উল্লেখ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হলে বাংলাদেশও ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়ে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কহারের চেয়েও নীতিগত অনিশ্চয়তা ব্যবসার জন্য বেশি ক্ষতিকর। এমন অবস্থায় ক্রেতারা পণ্য কেনায় আগ্রহ হারাতে পারেন। তাই বাংলাদেশকে এখনই বিকল্প পথ ও নতুন বাজার খুঁজতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি এই পদক্ষেপ নেন। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, বিশ্বের অন্যান্য দেশ এতদিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঠকিয়েছে এবং এই শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তার অবসান ঘটল। দিনটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত আটকে দিলেও ট্রাম্প ভিন্ন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ ও ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তরের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, ‘ট্রাম্পের সবকিছুই দ্বিপক্ষীয়। বৈদেশিক নীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্যনীতি—সব ক্ষেত্রেই তিনি দ্বিপক্ষীয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করছেন। এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হলো বলেই মনে করছি।’ তিনি আরও বলেন, ভারত যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে, বাংলাদেশেরও সে রকম বিকল্প চিন্তা করা উচিত।
সেলিম জাহান আরও প্রশ্ন তোলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কেন শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে বাণিজ্য চুক্তি করল। তার মতে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন কারণ নতুন সরকার এখন সেই চুক্তির দায়ভার বহন করছে। এদিকে এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানোর যে আবেদন বাংলাদেশ করেছে, সেই সময়ের মধ্যে সব ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসন এখন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করতে চাইছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকলেও তা সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য বলবৎ থাকতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ট্রেজারি বিভাগ পরিকল্পনা করছে কীভাবে নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা যায়। তবে এর জন্য জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যরীতির বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতির শিকার। তিনি মনে করেন, ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর রপ্তানি করলেও নিজেরা মার্কিন পণ্য কম আমদানি করে। উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে ৯০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল। এর জবাবেই ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসায়। একইভাবে ভারতের ৫২ শতাংশ শুল্কের জবাবে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি থাকলেও সেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে সেবা বাণিজ্যে দেশটির উদ্বৃত্ত ছিল ২৯৩ বিলিয়ন বা ২৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। প্রযুক্তি ও সেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে না।
আদালতের রায়ের পর শুল্ক বাবদ আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। গত এক বছরে এই খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আয় ছিল আনুমানিক ২৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানফ মন্তব্য করেছেন, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য এই অর্থ ফেরতের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এ নিয়ে আগামী কয়েক বছর আদালতে লড়াই চলতে পারে।
প্রথম আলো অবলম্বনে
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.