আপনি পড়ছেন

প্রকৃতি রক্ষায় বিশ্বে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তার চেয়ে অন্তত ৩০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে প্রকৃতি ধ্বংসের কাজে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রকৃতি ধ্বংসকারী খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যার বিপরীতে প্রকৃতি সুরক্ষায় বিনিয়োগ মাত্র ২২০ বিলিয়ন ডলার।

প্রকৃতি রক্ষায় ১ ডলার ব্যয়ের বিপরীতে ধ্বংস হচ্ছে ৩০ ডলার!
মার্কিন ডলার

‘দ্য স্টেট অব ফাইন্যান্স ফর ন্যাচার ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি ইউএনইপির ২০২৩ সালের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আগের ওই বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছিল, সরকারি ভর্তুকি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ৭ শতাংশের সমতুল্য, যা সরাসরি বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং এই প্রতিবেদনের প্রধান রচয়িতা মাইকেল কোনিগ-সিকোরোভা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে টেকসই উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছেন বলে কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আনাদোলুকে জানান, খরচ কমার সুবিধা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ এবং ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় সুরক্ষা, শহর শীতলকরণ, পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষির মতো খাতগুলোতে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিছু ক্ষতিকর বিনিয়োগ কমে আসারও লক্ষণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রকৃতি ধ্বংসকারী তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ ২০২০ সালের ৯৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২০২৩ সালে ৫১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই প্রবণতাটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ব্যয় কমার পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রকৃতি সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ, সেই ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

টেকসই বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও বৈশ্বিক অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষতিকর ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার আসে সরকারি সহায়তা থেকে, যা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি, কৃষি এবং পানি ব্যবহারের মতো খাতে নির্দেশিত হয়। বাকি ৪ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার আসে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ থেকে, যা প্রধানত পরিষেবা, শিল্প, জ্বালানি এবং মৌলিক উপকরণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত।

কোনিগ-সিকোরোভা আরও জানান, নেতিবাচক প্রভাবের একটি প্রধান চালিকাশক্তি হলো শিল্প খাত, যা ২০২৩ সালে প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জন্য দায়ী ছিল। অন্যদিকে, বন পুনরুদ্ধার এবং বর্জ্য পানি ব্যবস্থাপনার মতো প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের জন্য ২০২৩ সালে অর্থায়ন ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে সরকারি উৎস থেকে। বেসরকারি খাতের অবদান ছিল ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যদিও প্রতিবেদনে এ ক্ষেত্রে একটি ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং মরুকরণ রোধে ১৯৯২ সালের রিও কনভেনশনের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫৭১ বিলিয়ন এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৭৭১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বন এবং মহাসাগরগুলো এখনো প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে ভুগছে। তাই প্রতিবেদনে শহরের সবুজ স্থান, পুনরুৎপাদনশীল কৃষি পদ্ধতি এবং কার্বন শোষণকারী নির্মাণ সামগ্রীসহ প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবকাঠামোতে শক্তিশালী বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোনিগ-সিকোরোভা সতর্ক করে জানান, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তগুলোকে এমনভাবে রূপ দিচ্ছে, যা জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের লক্ষ্যমাত্রাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি জানান, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সীমিত আইনি প্রয়োগের ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো বিশেষ করে প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২০২৩ সালে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে অভ্যন্তরীণ সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৯৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষে ছিল এশিয়া। এরপর উত্তর আমেরিকা ৫৯ বিলিয়ন এবং ইউরোপ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

তবে কোনিগ-সিকোরোভা জানান, তিনটি রিও কনভেনশনের অধীনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগগুলো এখনো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান প্রবণতা বিবেচনা করে প্যারিস চুক্তির আর্থিক সমন্বয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ক্ষতিকর ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কঠিন হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখছি, স্বল্পমেয়াদি স্বার্থগুলো প্রায়শই পরিবেশগত অখণ্ডতাকে পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা না করে উন্নয়ন এবং ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে আধিপত্য বিস্তার করে।’

প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে এই গতিপথ পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আরও জানান, প্রকৃতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নেতৃত্ব, ব্যাপক নীতি সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত সহযোগিতার প্রয়োজন। এর পাশাপাশি ক্ষতিকর অর্থায়ন ধীরে ধীরে বন্ধ করতে এবং রিও কনভেনশনের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ প্রচারের জন্য দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.