তেলের দাম বাড়ার পর ‘অতিরিক্ত মুনাফা’ নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক করলেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর পেট্রোল বিক্রেতাদের সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস মঙ্গলবার জানান, সরকার কোনোভাবেই অতিরিক্ত দাম আদায় মেনে নেবে না। দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেলের দামে ব্যাপক পার্থক্য দেখার পর চলতি সপ্তাহে বিক্রেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন।

হাউস অব কমন্সে ট্রেজারি মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে চ্যান্সেলর এসব কথা বলেন।
সোমবার তেলের দাম গত ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে। এ বিষয়ে রিভস বলেন, ‘সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এটিই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।’
পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামলাতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাজেটে আমরা জ্বালানি বিল থেকে অর্থ কমিয়েছি এবং প্রেসক্রিপশন ফি ও ট্রেনের ভাড়া অপরিবর্তিত রেখেছি।’
রিভস সরকারের ‘চিপার ফুয়েল ফাইন্ডার স্কিম’-এর কথাও তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে চালকরা সারা দেশের পাম্পগুলোতে পেট্রোলের দাম তুলনা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই স্কিম এখন অনলাইনে চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে সারা দেশের পাম্পগুলোর পেট্রোলের দাম দেখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল কিছু পেট্রোল বিক্রেতা প্রতি লিটারে প্রায় ১৮০ পেন্স (পি) দাম রেখেছে, যেখানে অন্যরা ১৩০ পেন্সের কম রাখছিল। এই সরকার অতিরিক্ত দাম আদায় মেনে নেবে না। সাধারণ মানুষের জন্য পাম্পগুলোতে তেলের দাম কমাতে আমি চলতি সপ্তাহে বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্বেগ জানাব।’
গত শরতে চ্যান্সেলর জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালে চালু হওয়া প্রতি লিটারে ৫ পেন্স জ্বালানি শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হতে শুরু করবে। এরপর কর ধীরে ধীরে বেড়ে ২০২৭ সালে ২০২২ সালের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
তবে বিরোধী দলগুলো এই পরিকল্পিত বৃদ্ধি বাতিল করে বর্তমান শুল্ক হার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, কনজারভেটিভস এবং রিফর্ম ইউকে—সবাই চ্যান্সেলরকে কর অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়ে ইরান সম্প্রতি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়ার বাজারগুলোতে যায়।
এই অচলাবস্থার কারণে রফতানিকারকরা বিকল্প নৌপথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে সার উৎপাদনে ব্যবহৃত শস্য পুষ্টির বড় রফতানিও এই অঞ্চল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে।
সরবরাহ সংকট এবং জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে এবং খাবারের দাম বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি এই প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত করার কোনো চেষ্টা করে, তবে আগের মার্কিন সামরিক হামলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.