জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলে তা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিক উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার আইএমএফের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজ্যাক জানান, যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও তীব্রতার ওপর এর বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে। আইএমএফ প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর নজর রাখছে। এগুলো হলো— পণ্যমূল্য, মূল্যস্ফীতি ও এর পূর্বাভাস এবং আর্থিক পরিস্থিতি।
তিনি জানান, এরই মধ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত চোখে পড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ও সমুদ্রপথে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবাহ ২০ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেল-গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এই অঞ্চলে হাইড্রোকার্বন উৎপাদন ব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রণালীটি কতদিন বন্ধ থাকবে, তার ওপর পণ্যমূল্যের প্রভাব নির্ভর করবে বলে জানান জুলি।
জুলি কোজ্যাক জানান, গত এক মাসে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে সার্বিক নিত্যপণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
এই মুখপাত্র জানান, অতীতের ধারা অনুযায়ী তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে যদি তা বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক উৎপাদন শূন্য দশমিক ১ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আর্থিক পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে জুলি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপসহ অনেক দেশের শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে এবং বন্ডের মুনাফা বেড়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান কমেছে।
আগামী এপ্রিলে প্রকাশিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে আইএমএফ বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং দেশভিত্তিক অর্থনীতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরবে বলে জানান জুলি।
আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়ে তিনি জানান, আইএমএফের প্রাথমিক মূল্যায়নে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জ্বালানির বাড়তি দাম কিছু দেশে উৎপাদনের ঘাটতি কিছুটা বা পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে পারলেও, রপ্তানি কত দ্রুত শুরু হবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে এসব দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) আওতাভুক্ত বেশিরভাগ দেশের নীতিগত সক্ষমতা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্কার, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও লজিস্টিক উন্নয়নের মাধ্যমে তারা নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে বলেও জানান তিনি।
ইউরোপ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানেও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান জুলি। এছাড়া সংঘাত ও তেলের বাড়তি দাম মার্কিন অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আইএমএফ তাদের ‘আর্টিকেল ফোর’ প্রতিবেদনে মূল্যায়ন হালনাগাদ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জুলি কোজ্যাক জানান, আইএমএফ ওয়াশিংটনকে তাদের রাজস্ব ঘাটতি কমানোর এবং সরকারি ঋণ ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছে। মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আইএমএফ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানান জুলি। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অর্থায়নের অনুরোধ করেনি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সদস্যদের সহায়তা করতে সংস্থাটি তাদের সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.