আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অগ্রগতি। এই অস্ত্রবিরতিকে বিবদমান পক্ষগুলোর জন্য একটি কৌশলগত বিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যার স্থায়িত্ব নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অস্ত্রবিরতি: কূটনৈতিক জয় পাকিস্তানের, শঙ্কায় ইসরায়েল
ছবি - সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অস্ত্রবিরতি সামরিক অর্জনকে রাজনৈতিক লাভে রূপান্তরের একটি বড় সুযোগ। টানা পাঁচ সপ্তাহের হামলায় ইরানের পারমাণবিক, সামরিক, শিল্প ও জ্বালানি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগন যখন ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিড ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সে সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত কমানোর একটি পথ তৈরি করে দেয় পাকিস্তান। অন্যদিকে, ইরানের জন্য এই বিরতি ছিল অত্যন্ত জরুরি। দেশটির প্রতিশোধ নেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও তা সংঘাত থামাতে পারছিল না। তাই অর্থনীতির আরও বড় ক্ষতি এড়াতে এবং আত্মসমর্পণ ছাড়াই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে তেহরান এই চুক্তি মেনে নেয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বদলে আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা তেহরানকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

তবে ইসরায়েলের জন্য এই অস্ত্রবিরতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হলেও জানিয়েছেন, লেবাননে তাদের চলমান আগ্রাসনে এই বিরতি প্রযোজ্য হবে না। ফলে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে ইসরায়েল এই চুক্তির সীমা বারবার পরীক্ষা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, এই চুক্তিকে ইসলামাবাদের জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ পারমাণবিক শক্তি হওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের সুসম্পর্ক এবং ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এই মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো এই বিরতিতে স্বস্তি পেলেও তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়ে গেছে। কারণ, যুদ্ধের মতো এই অস্ত্রবিরতির কাঠামো নিয়েও তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি আপাতত টিকে থাকলেও ১৪ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব। আলোচিত ১৫ ও ১০ দফার পরিকল্পনার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল এই চুক্তির অংশীদার না হওয়ায় চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইরানি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ইসরায়েল যদি একে ‘আত্মরক্ষা’ বলে দাবি করে, তবে চুক্তির পতন হতে পারে।

তা সত্ত্বেও, খুব শিগগিরই এই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ কোনো পক্ষই নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর দায় নিতে চাইছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছেন। ইরানও নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য সময় পেয়েছে। এমনকি নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তিচুক্তি সরাসরি অমান্য করতে চাইবেন না। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই চুক্তির সাফল্য নির্ভর করছে ইসরায়েলকে এর আওতায় আনা, উপসাগরীয় দেশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ইরানকে সম্মানজনক সমাধানের সুযোগ দেওয়ার ওপর।

লেখক: কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক
আনাদোলু এজেন্সি থেকে অনূদিত

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.