হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ খোঁজার তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পরিবহনের রুট নিয়ে দেশগুলোকে নতুন করে ভাবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এই আহ্বান জানান।

টম ব্যারাক সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, সামুদ্রিক রুটগুলো দীর্ঘকাল ধরে তাদের নমনীয়তার জন্য পছন্দনীয় হলেও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
এই সংকট মোকাবিলার জন্য বিকল্প রুট এবং আঞ্চলিক করিডোরগুলোর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। টম ব্যারাক জ্বালানি, উপাত্ত এবং বাণিজ্য প্রবাহের জন্য তুরস্ক ও সিরিয়াকে কেন্দ্রীয় ট্রানজিট হাব হিসেবে উল্লেখ করেন। তুরস্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার জন্য বৈশ্বিক নেতা ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
তেল, গ্যাস ও ফাইবার অপটিক্সসহ অন্যান্য সম্পদের চলাচলের কথা উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সবকিছুই তুরস্ক ও সিরিয়ার ভেতর দিয়ে আসে।’
কাস্পিয়ান অববাহিকা, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া এবং এর বাইরের অঞ্চলগুলোকে যুক্ত করে এমন আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। পূর্ব-পশ্চিমের জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ আগামীতে এসব রুটের ওপর বেশি নির্ভরশীল হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা সংঘাতের বদলে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। সামরিক শক্তি দিয়ে টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘ইরানের মতো একটি স্বাধীন দেশ যখন কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করে, তখন তাদের হত্যা করে সেই গোষ্ঠীকে নির্মূল করা যায় না। প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রেই এই দর্শন প্রযোজ্য। ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধি দিয়ে শুরু করা প্রয়োজন।’
‘শত্রুকে শারীরিকভাবে নির্মূল করার ধারণাটি কাজ করে না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি কেবল দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতাকেই উসকে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে শেষ পর্যন্ত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সিরিয়া তুরস্কের পাশাপাশি একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র, যা তাদের এটি করার সুযোগ দিচ্ছে।’
নতুন দৃষ্টিকোণে ‘পরীক্ষামূলক’ সিরিয়া সিরিয়াকে আঞ্চলিক গতিশীলতা পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি এটিকে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি অপ্রত্যাশিত ফল হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ঐতিহ্যবাহী সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে আঞ্চলিক শক্তি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি বিস্তৃত পদক্ষেপকে প্রতিফলিত করে।
ব্যারাকের মতে, ওয়াশিংটন সিরিয়ায় তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়েছে, যা কয়েক দশকের নীতির একটি বড় পরিবর্তন। অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলো ফলাফল নির্ধারণে বৃহত্তর ভূমিকা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আল-শারা প্রশাসনের অধীনে সিরিয়া কখনোই ইসরায়েলের দিকে গুলি ছোড়েনি।’ সিরিয়ানরা বারবার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি, লেবাননের চেয়ে সিরিয়ার সঙ্গে আমরা আগেই একটি স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে পৌঁছাব।’
তুরস্কের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এই নতুন আঞ্চলিক কাঠামোতে তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন টম ব্যারাক। তিনি তুরস্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, তুরস্ক শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সামরিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিয়ে একটি প্রকৃত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এটি উদীয়মান বাণিজ্য ও জ্বালানি রুটের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
এই মার্কিন দূত ইঙ্গিত দেন, তুরস্ক, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতাসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক সমন্বয় স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল তুরস্কের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে, যেমনটা তারা আবুধাবির সঙ্গে করেছে। ইসরায়েলি জনগণের সমৃদ্ধির জন্য সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে, আমার কাছে এটাই সমাধান।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমার মনে হয় এই বাগাড়ম্বর দূর হতে যাচ্ছে। তুরস্ক এমন কোনো দেশ নয় যাকে ঘাঁটানো যায়।’
অন্তর্ভুক্তিমূলক কূটনীতি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে ব্যারাক জোর দিয়ে বলেন, গাজা ও লেবাননের মতো এলাকার সংকট সমাধানে বাদ দেওয়ার চেয়ে অন্তর্ভুক্ত করাই মূল চাবিকাঠি।
তিনি জানান, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতার কারণে তুরস্কের মতো দেশগুলো গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিই একমাত্র সমাধান। বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বল্পমেয়াদি।’
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শক্তির ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি সতর্ক করেন যে, এটি টেকসই সমাধানের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।
তিনি বলেন, ‘সংঘাত থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে ঘৃণার জন্ম নেয়, তা অপূরণীয়।’ এর বদলে তিনি সংলাপ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।
হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, হিজবুল্লাহ কেবল একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। এই বিষয়টি লেবাননের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত।
ব্যারাক যুক্তি দেন, কেবল শক্তির মাধ্যমে এই ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা অকার্যকর, বিশেষ করে যখন তাদের পেছনে বিদেশি মদদ থাকে।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপসহ চলমান সংঘাত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এই গোষ্ঠীর যৌক্তিকতা আরও জোরালো করতে পারে।
তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা উত্তেজনা নিয়েও কথা বলেন টম ব্যারাক। বিশেষ করে আঙ্কারার রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি উঠে আসে।
তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক একটি রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা... এস-৪০০ কিনেছিল। এরপর কংগ্রেস নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।’ এই ধরনের পদক্ষেপ অকার্যকর দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত মতে... নিষেধাজ্ঞা কাজ করে না।’
দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আলোচনায় বসেছিলেন। তিনি জানান, হাল্কব্যাংকের বিষয়টি এখন ঠিক আছে এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘জোটটি নতুন করে গড়ে উঠছে।’
এই বিরোধ দ্রুত মিটে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এস-৪০০ পরিস্থিতি শিগগিরই সমাধান হতে দেখবেন।’
উন্নত প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে তুরস্কের ফিরে আসার সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বসের দৃষ্টিকোণ থেকে, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে তাদের গ্রহণ করাটা ঠিক আছে।’
একটি তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘গ্রিসের কাছে এস-৩০০ এবং এফ-৩৫ দুটোই রয়েছে।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.