চোখের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলেই চিরতরে হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি
- Details
- by জীবনশৈলী ডেস্ক
চোখের বেশিরভাগ মারাত্মক রোগ শুরুতে কোনো ধরনের ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই নীরবে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগে রোগীরা কোনো সমস্যাই অনুভব করেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে স্থায়ী অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুকোমা চোখের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এটি কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে আনে। একইভাবে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিও প্রথম দিকে কোনো স্পষ্ট সংকেত দেয় না। যখন এসব রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখন চোখের ক্ষতি প্রায়ই অপূরণীয় পর্যায়ে চলে যায়। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর চোখ পরীক্ষা করা জরুরি।
শিশুদের চোখের সমস্যা তাদের পড়াশোনা, মনোযোগ ও সামগ্রিক বিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলে। হ্রস্বদৃষ্টি বা অলস চোখের মতো সমস্যা সময়মতো ধরা না পড়লে শিশুর দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক সময় শিশুরা নিজেরাও বুঝতে পারে না যে তারা ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে না, কারণ তারা কখনো স্বাভাবিক দৃষ্টির অভিজ্ঞতাই পায়নি। এ কারণে শিশুদের চোখের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স, রেটিনা এবং অপটিক নার্ভের স্বাভাবিক কার্যকারিতা কমতে থাকে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর ক্যাটার্যাক্ট বা ছানিপড়া সমস্যার ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো চিহ্নিত করা গেলে সাধারণ অস্ত্রোপচার বা ওষুধের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ চোখের রক্তনালিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের রোগীদের বছরে অন্তত একবার রেটিনা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
চিকিৎসকরা বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য চক্ষু পরীক্ষার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের পর প্রথমবার, এরপর ৬ থেকে ১২ মাস বয়সে এবং ৩ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো উচিত। স্কুলজীবনে প্রতি বছর একবার চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের প্রতি ২ থেকে ৩ বছর পরপর এবং ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের ১ থেকে ২ বছর পরপর পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তবে ৬০ বছর পার হলে প্রতি বছর অবশ্যই একবার চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। যাদের পরিবারে গ্লুকোমা বা ছানির ইতিহাস আছে অথবা যারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের আরও ঘন ঘন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চোখের পরীক্ষা কেবল দৃষ্টিশক্তি মাপার জন্য নয়। একজন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, এমনকি ব্রেইন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণও শনাক্ত করতে পারেন। তাই চোখের পরীক্ষাকে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সুস্থ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে অবহেলা না করে নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.