খাদ্য অপচয় বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
খাদ্য হ্রাস ও অপচয়ের কারণে তৈরি হওয়া জৈব বর্জ্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে। এ বিষয়ে বৈশ্বিক পরিসরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, একদিকে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্য অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে।

২০২৬ সালের জিরো ওয়েস্ট ফোরামে গ্লোবাল ফুডব্যাংকিং নেটওয়ার্কের কৌশল ও উদ্ভাবন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক আনা ক্যাটালিনা সুয়ারেজ পেনা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুড ব্যাংকিং ও খাদ্য অপচয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক মিথেন নির্গমনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে জৈব বর্জ্য থেকে এবং এই জৈব বর্জ্যের প্রায় ৭৭ শতাংশই হলো খাদ্য বর্জ্য।
আনা ক্যাটালিনা বলেন, ‘একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ২৫০ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে। এখানে একটি বড় বৈপরীত্য আছে। একদিকে আমরা খাবার হারাচ্ছি ও অপচয় করছি, অন্যদিকে মানুষ ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফুড ব্যাংকগুলো মূলত এই দুই বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ করে।’
তিনি আরও জানান, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভূমি, কৃষি এবং খাদ্য ব্যবস্থা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং কপ২৮-এর পর থেকে প্রতিটি কপের আলোচ্যসূচিতে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ অনেক সময় প্রশ্ন করে, জলবায়ু নিয়ে কথা বলার সময় আমরা কেন খাদ্য ব্যবস্থার কথা বলছি। আমরা খাদ্য ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলি কারণ খাদ্যের স্থিতিশীলতা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।’
তার মতে, বন্যা, চরম বৃষ্টিপাত বা দাবানলের মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সময় খাদ্যের স্থিতিশীলতা কীভাবে ব্যাহত হয়, সেটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ফসল কাটার ধরণ বদলে যায় এবং সারের দাম বেড়ে যায়। সুয়ারেজ পেনা বলেন, ‘এরপর আমাদের আলোচনা করতে হয় যে, আমরা কীভাবে খাদ্য উৎপাদন করছি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষকে কীভাবে খাওয়ানো হবে।’
কপ৩১-এর জিরো ওয়েস্ট প্যাকেজের আওতায় খাদ্য অপচয় রোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান সুয়ারেজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো শুরু থেকেই খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় রোধ করা, কারণ সর্বোত্তম বর্জ্য হলো সেটি যা আপনি কখনোই তৈরি করেন না। কপ৩১ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো বর্জ্য কর্মসূচি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে। কপ৩১ প্রেসিডেন্সির সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি যেন এটি দরকষাকষির অংশ হয় এবং খাদ্য অপচয় কমাতে প্রণোদনা ও সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকে।’
‘খাদ্য অপচয় রোধই পৃথিবীকে শীতল রাখার সেরা উপায়’
সুয়ারেজ জোর দিয়ে বলেন, একটি ফুড ব্যাংক যখন ১ টন খাদ্য অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা করে, তখন এটি ২.৬ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও রোধ করে। তিনি জানান, জিরো ওয়েস্ট ফোরাম থেকে কপ৩১-এ নিয়ে যাওয়ার মতো অন্যতম প্রধান বার্তা হলো, জৈব বর্জ্য কমানোই জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণের সবচেয়ে দ্রুত উপায়। পাশাপাশি অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার সহজলভ্য করা হলো খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করার সবচেয়ে দ্রুত পন্থা।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং উৎপাদিত মোট খাদ্যের ৩০ শতাংশ অপচয়ের সমাধান এরই মধ্যে মাঠে বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে এমন অনেক সমাধান কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, কাজ করছে এমন সমাধানগুলোকে আমরা প্রচার, সমর্থন এবং প্রসারিত করছি। আর এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি। খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় রোধ করাই পৃথিবীকে শীতল রাখার এবং মানুষকে খাওয়ানোর সেরা উপায়। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সবাই সক্রিয়ভাবে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, কারণ এই বৈপরীত্য আমাদের সবার সমস্যা।’
‘খাদ্য অপচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া তুরস্কের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী পদক্ষেপ’
গ্লোবাল ফুডব্যাংকিং নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ও বিপণন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ওকো জানান, খাদ্য অপচয় রোধ করার মাধ্যমে মিথেনের মতো শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনও রোধ করা যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি খাবার নষ্ট করার বদলে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, অথবা কম্পোস্টিংয়ের মতো অন্যান্য সমাধানে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে পৃথিবীকে উত্তপ্তকারী নির্গমন আমরা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারব।’
ওকো জানান, মোট নির্গমনের প্রায় ৮-১০ শতাংশই খাদ্য বর্জ্যের কারণে হয়, যা মোট নির্গমনের একটি বড় অংশ। তাই খাদ্য অপচয় কমালে নির্গমন কমানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র ৪ শতাংশ খাদ্য ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত হচ্ছে, যা স্পষ্টতই একটি বড় অসামঞ্জস্য।
আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে খাদ্য অপচয় ও খাদ্য ব্যবস্থার প্রতি মনোযোগ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গ্লোবাল ফুডব্যাংকিং নেটওয়ার্ক বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে কাজ করছে এবং এখন এর গতি বাড়ছে।
মাইকেল ওকো বলেন, ‘তুরস্ক এই ক্ষেত্রে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা দেখছি যে, এই বছর খাদ্য অপচয় সত্যিই আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত। তুরস্ক এটিকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা সত্যিই একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। বিশ্বে ফুড ব্যাংকিং-সহ এমন অনেক সমাধান রয়েছে যা একইসঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু উভয় সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে। আমাদের শুধু কথায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কাজ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এই বছর কপে আমরা এটাই দেখার আশা করছি।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.