ইরান চুক্তিতে বড় ধাক্কা, নেতানিয়াহুর কৌশল কি ব্যর্থ?
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মানচিত্র বদলে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি সমঝোতার পর তা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই চুক্তি নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ইরাননীতি এবং যুদ্ধকৌশলের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রবিবার ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার প্রাথমিক কাঠামোতে এমন অনেক বিষয় অনুপস্থিত, যেগুলোকে ইসরায়েল যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিল। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি এখনো দেখা যায়নি।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং গাজার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করারও দাবি জানিয়ে আসছিল তেল আবিব।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির এই কাঠামোগত চুক্তিতে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বরং আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইসরায়েলের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুদ্ধের পরও ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক প্রভাব অক্ষত থাকছে।
এই চুক্তির ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সঙ্গে সমঝোতার শেষ পর্যায়ে ছিল, তখনও বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল, যা ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনতে চাইছেন, আর নেতানিয়াহু এখনও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে আগ্রহী। ফলে দুই নেতার কৌশলগত লক্ষ্য এখন আর পুরোপুরি এক নয়।
আগামী নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও পড়েছেন। বিরোধী রাজনীতিক ও ডানপন্থী অনেক নেতাই ইতোমধ্যে চুক্তির সমালোচনা শুরু করেছেন।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই সমঝোতাকে "ইসরায়েলের জন্য খারাপ চুক্তি" বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য সমালোচকেরা বলছেন, যুদ্ধের মাধ্যমে যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছিল, তার কোনোটিই বাস্তবে অর্জিত হয়নি।
জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলিদের আস্থা আগের তুলনায় কমেছে। অনেকেই মনে করছেন, ওয়াশিংটন এখন নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লেবানন সীমান্তে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা। ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে কার্যকর হতে পারে, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।
এতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপে ইসরায়েলের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
নেতানিয়াহু যুদ্ধকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ইরান সরকার টিকে গেছে, পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, আর আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপরও বড় কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়নি।
ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমীকরণে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে নেতানিয়াহুকেই।
তাদের ভাষ্য, যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটি ইসরায়েলের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়নি; বরং ট্রাম্পের কূটনৈতিক সমঝোতা নেতানিয়াহুকে এক নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.