খেলা শেষ হওয়ার পর মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে স্কোরলাইনটা জ্বলজ্বল করছিল—স্পেন ০: কেপ ভার্দ ০। খালি চোখে এটি কেবল একটি গোলশূন্য ড্র মনে হলেও, ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক মহাকাব্যিক রূপকথা! মাত্র ছয় লাখ মানুষের ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্র, যারা এই প্রথম বিশ্বকাপের আঙিনায় পা রেখেছে, তারা কি না রুখে দিলো বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনকে!

আটলান্টায় কেপ ভার্দের মহাকাব্যিক রূপকথা
স্পেন - কেপ ভার্দের ম্যাচে বল দখলের লড়াই।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ ডাগআউটের দৃশ্য ছিল বিষণ্ণ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখের সেই হাসি উধাও, কপালে চিন্তার ভাঁজ। অন্যদিকে কেপ ভার্দের ডাগআউটে ছিল দেখার মতো এক দৃশ্য! কোচ বুবিস্তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন ফুটবলাররা। এ যেন শুধু এক পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দ নয়, এ যেন বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় কিছু। অথচ ম্যাচের শুরু থেকেই চিত্রনাট্য ছিল চেনা। ৭৪ শতাংশ সময় বল ছিল স্পেনের দখলে। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বলের আদান-প্রদান আর তিকিতাকার সেই চেনা ছন্দ। কিন্তু জালের দেখা মিলছিল না। স্পেনের খেলা যারা পছন্দ করেন, তাদের মনে গত দুটি বিশ্বকাপের সেই চেনা শঙ্কা আবার জেগে উঠেছিল—অন্তহীন পাসিং, কিন্তু গোলমুখে কার্যকারিতার অভাব। বক্সের সামনে গিয়ে সব আক্রমণ যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ডাগআউটে বসে থাকা লামিন ইয়ামাল কিংবা নিকো উইলিয়ামসদের অভাবটা আজ বড্ড বেশি টের পেয়েছে ‘লা রোখারা’।

তবে এই ম্যাচের আসল নায়ক ৪০ বছর বয়সী এক ‘তরুণ’ গোলরক্ষক—ভোজিনহা! ফুটবল পাড়ায় যেখানে এই বয়সে মানুষ বুটজোড়া তুলে রেখে কোচিং কোর্স করার কথা ভাবে, সেখানে ভোজিনহা আজ বাজপাখির ডানায় ভর করে উড়লেন। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ যেভাবে তিনি রুখে দিলেন, তা ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য। পুরো ম্যাচে ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে বিশ্বকাপ অভিষেকে সবচেয়ে বয়স্ক গোলরক্ষক হিসেবে ক্লিনশিট রাখার অনন্য এক কীর্তি গড়ে ফেললেন এই ‘বুড়ো’ তারকা।

কেপ ভার্দের ডিফেন্ডারদের শৃঙ্খলাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিসংখ্যানবিদরা রেকর্ড বই ঘেঁটে দেখছেন, ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর কোনো ম্যাচে মাত্র ১টি ফাউল করে প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার কীর্তি আর কেউ দেখাতে পারেনি। কোনো শরীরী ফুটবল নয়, বরং নিখুঁত পজিশনিং আর ট্যাকটিকাল ডিসিপ্লিনে স্পেনের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন ডিনে বোর্হেস ও তাঁর সহযোদ্ধারা। ম্যাচের শেষ দিকে ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো দুলছিল। স্পেনের আক্রমণের পর আক্রমণ সামলে উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে যখন ডিনে বোর্হেস শট নিলেন, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পিকো লোপেস যদি জীবনের সেরা স্লাইডটা না দিতেন, তবে আজ স্পেনকে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতো।

বিশ্বকাপ কেন ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় উৎসব, কেন মানুষ বারবার এই খেলার প্রেমে পড়ে, আটলান্টার এই রাত যেন তা আবারও মনে করিয়ে দিল। কাগজে-কলমে কিংবা শক্তিতে স্পেনের ধারেকাছেও নেই কেপ ভার্দ। কিন্তু সবুজ মাঠের ৯০ মিনিটে যখন এগারো জনের বিরুদ্ধে এগারো জন লড়াই করে, তখন জেদ আর সংকল্পের কাছে ইতিহাসও থমকে দাঁড়ায়। গ্রুপ ‘এইচ’ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তবে পরের রাউন্ডে কোন দল যাবে, সেই হিসাব তোলা থাক সময়ের জন্য। আপাতত আটলান্টার এই ম্যাজিক আর ৪০ বছরের ভোজিনহার রূপকথাতেই বুঁদ হয়ে থাকুক ফুটবল বিশ্ব।

—ডা. আবু হেনা মোস্তফা বেলাল, ক্রীড়া অনুরাগী ও লেখক।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.