আপনি পড়ছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রভাব ব্যাপকভাবে কমেছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হারজগ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সম্পর্কের আগের সেই ঘনিষ্ঠতা এখন আর নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক ইসরায়েলি দূত: ওয়াশিংটনে তেল আবিবের প্রভাব ‘ব্যাপক কমেছে’
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র দ্য জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে ইসরায়েলি রেডিও স্টেশন ১০৩এফএম-এ দেওয়া হারজগের একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। সেখানে হারজগ বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় কোনো একটি ক্ষতি হয়েছে।’

সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠককে তাদের ‘সবচেয়ে সেরা বৈঠকগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। ইরান নিয়ে উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্নের মাঝেই তিনি এমন দাবি করেন। তবে হারজগ এই বৈঠকটিকে আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকটিতে অনেক ভিড় ছিল এবং সেখানে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

হারজগের মতে, নেতানিয়াহুর জন্য এই বৈঠকের প্রধান অর্জন হলো ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করেননি বা সরাসরি কোনো দাবি জানাননি। সাবেক এই রাষ্ট্রদূত জানান, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির ধারণা বদলানোর একটি স্বার্থ নেতানিয়াহুর ছিল।

তিনি বৈঠকের আশেপাশের বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক সংকেতের দিকেও ইঙ্গিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর পাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করা, একান্ত বৈঠকের অনুপস্থিতি এবং গণমাধ্যমের সীমিত উপস্থিতি। হারজগ বলেন, কূটনৈতিক ভাষায় এর অর্থ হলো ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা দেখাতে চাননি। তিনি বলেন, ‘সেখানে বিষয়টি আড়ালে রাখার একটি ইচ্ছা ছিল।’

হারজগ এই শীতল পরিস্থিতিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি জানান, ইসরায়েলই ট্রাম্পকে এই সংঘাতে ঠেলে দিয়েছে বলে ক্রমশ মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি মোটেও জনপ্রিয় নয়।’ ইসরায়েল ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক পুরোপুরি সংকটের পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে হারজগ মনে করলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন এক সময়ে এই ঘনিষ্ঠতা কমেছে যখন বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর ইসরায়েলের প্রভাব ব্যাপকভাবে কমে গেছে।’

তিনি আরও যুক্ত করেন, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় কোনো মতপার্থক্য না থাকলেও ট্রাম্প চান না সংঘাতটি এমনভাবে দেখা হোক যেন নেতানিয়াহু এটি তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের অবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি অবনতি নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘খুব মারাত্মক একটি ক্ষয় হয়েছে এবং এটি সাময়িক নয়।’

তিনি এই অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন, ইসরায়েলকে অবৈধ প্রমাণের প্রচারণা এবং পর্যায়ক্রমিক ইসরায়েলি সরকারগুলোর ভুলকে দায়ী করেন। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের ভাবমূর্তি এবং গাজায় যুদ্ধের আচরণও ইসরায়েলের অবস্থানকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি জানান।

বুধবার নেতানিয়াহু স্বীকার করেন যে, মার্কিন জনগণের মধ্যে ইসরায়েল ও তার সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং এর জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুলাই মাসের একটি জরিপে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিনিরা ইসরায়েলি জনগণ ও সরকার উভয়ের প্রতিই আরও বেশি সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৪২ শতাংশ মার্কিনির ইসরায়েলি জনগণের প্রতি নেতিবাচক ধারণা ছিল, যা ২০১৯ সালে ছিল ২৮ শতাংশ। একই সময়ে ইসরায়েলি সরকারের প্রতি ইতিবাচক ধারণা ৪১ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গাজায় বর্বরোচিত সামরিক অভিযানের কারণে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ওই উপত্যকায় ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর পরও ইসরায়েল তাদের নৃশংস হামলা অব্যাহত রেখেছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.