চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে প্রতিরোধ ও পালটা হুঁশিয়ারি ইরানের
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্বব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই অর্থনৈতিক যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে ইরানের অবকাঠামোতে কোনো আঘাত হানা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তেহরান একঘরে না হওয়া পর্যন্ত তাদের শাসনকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন ছিন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান চলাচল, নৌপরিবহন, স্বর্ণ, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বেসেন্ট আরও জানান, ট্রেজারি বিভাগ বিশ্বব্যাপী ৬০টিরও বেশি সত্তা, ব্যক্তি এবং জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করছে। তিনি বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে তারা আমাদের অংশীদারিত্বের সুফল পাবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে লেনদেন বন্ধ করার জন্য বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করছেন বলে জানা গেছে। স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন চাপের কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি ইরানের সাথে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানে ৩৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং তারা তাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে আর বেতন দিতে পারছে না। বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার সর্বোচ্চ চাপের প্রচারণাকে নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
মার্কিন এই পদক্ষেপের জবাবে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বহুমুখী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে হতাশা ছড়ানো এবং জীবনযাত্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের সাথে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহাস করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি ভুয়া খবর শেয়ার করেছিলেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল গালিবাফ বলেছেন তারা ক্ষুধার্ত এবং বাঁচতে পারবেন না। এর জবাবে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে একটি গ্রাফিক পোস্ট করেন, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘মেক আমেরিকা হাংরি এগেইন।’ গালিবাফ সেখানে লেখেন, ‘ভিত্তিহীন দাবি দিয়ে আপনি আপনার পরাজয় ঢাকতে পারবেন না।’
অর্থনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও চরমে পৌঁছেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহিব্বি সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চোকপয়েন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থগুলোতে ভারী আঘাত হানা হবে। তিনি বলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো করেই বোঝে যে, তারা যদি ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে তাদের জ্বালানি চোকপয়েন্ট এবং অত্যাবশ্যকীয় স্বার্থগুলোতে ভারী কৌশলগত আঘাতের সম্মুখীন হতে হবে।’ তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার যে দাবি ওয়াশিংটন করেছে তা মিথ্যা এবং তেহরান এখনো স্মার্ট ও গাইডেড মিসাইল তৈরি করে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পালটা হামলা চালায়। এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জুনের মাঝামাঝি সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি মতবিরোধের কারণে আটকে যায়। আগের মাসে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানে হামলা চালালে তেহরান কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালায়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.