যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যয়ন কর্মসূচি বাতিল করছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কৃষ্ণাঙ্গ, আফ্রিকান এবং আফ্রিকান-আমেরিকান অধ্যয়ন কর্মসূচি কমিয়ে আনছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, বৈচিত্র্য ও বর্ণ-সম্পর্কিত শিক্ষার ওপর রাজনৈতিক চাপও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের পর থেকে এক ডজনেরও বেশি বেসরকারি কলেজ এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এসব বিষয়ের কর্মসূচি কমিয়েছে, একীভূত করেছে বা পুরোপুরি বাতিল করেছে।
ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যানসাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অ্যাকাডেমিক ইউনিট বন্ধ বা একীভূত করেছে। এছাড়া তারা মেজর বিষয় বাতিল এবং শিক্ষক ও কোর্সের সংখ্যা কমিয়েছে। অন্যদিকে কেনেসও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব টলেডো এবং ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এ সংক্রান্ত ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করেছে বা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কলেজগুলো যখন ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে, তখনই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের কম চাহিদা, বাজেট ঘাটতি এবং কম স্নাতকধারী থাকা কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনার বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্দেশিকাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে থাকা ফেডারেল পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত তিন বছরের প্রতিটিতে দেশজুড়ে ৭০০ জনেরও কম শিক্ষার্থী আফ্রিকান-আমেরিকান স্টাডিজে ডিগ্রি পেয়েছেন, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া কর্তৃপক্ষ আফ্রিকান-আমেরিকান স্টাডিজ মেজর বাতিল করার সময় শিক্ষার্থী কম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে। সে সময় তাদের স্নাতক কর্মসূচিতে মাত্র নয়জন শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। তারা আফ্রিকানা স্টাডিজ, এশিয়ান স্টাডিজ, মেক্সিকান-আমেরিকান স্টাডিজ, এলজিবিটিকিউ স্টাডিজ এবং উইমেনস অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের মাইনর কোর্সগুলো বন্ধ বা একীভূত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এছাড়া কম স্নাতকধারী থাকা কর্মসূচি পর্যালোচনার বিষয়ে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের নির্দেশনার অধীনে ইউনিভার্সিটি অব টলেডোতে আফ্রিকানা স্টাডিজের স্নাতক কর্মসূচিতে ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এসব পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্ণ এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাস নিয়ে পাঠদান বা গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কোর্স, মাইনর বা গবেষণা কার্যক্রম চালু রেখে তাদের কর্মসূচি পুনর্গঠন করছে। উদাহরণস্বরূপ, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি তাদের আফ্রিকান স্টাডিজ কর্মসূচির প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করলেও এই বিষয়ে গবেষণা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় বৈচিত্র্য কর্মসূচি এবং বর্ণ ও জেন্ডার শিক্ষার ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব পরিবর্তন ঘটছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফেডারেল সরকারজুড়ে বৈচিত্র্য, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি উদ্যোগগুলো বাতিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এ ধরনের কিছু কর্মসূচি বেআইনি জাতিগত বৈষম্যের সমতুল্য। এছাড়া বৈচিত্র্য-সম্পর্কিত নীতি এবং বর্ণ-সম্পর্কিত গবেষণার ক্ষেত্রে ফেডারেল তহবিল সীমিত বা প্রত্যাহার করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফ্লোরিডার একটি আইনে নির্দিষ্ট কিছু সাধারণ শিক্ষা কোর্সে ‘পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি’ পড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলিনার আইনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে বর্ণ ও জেন্ডার সম্পর্কিত ‘বিভাজনমূলক ধারণা’ পড়ানোর ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বর্ণ ও জেন্ডার শিক্ষার ওপর নতুন নিয়ম চালুর পর টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি ‘ইন্ট্রোডাকশন টু রেস অ্যান্ড এথনিসিটি’সহ বেশ কয়েকটি কোর্স বাতিল করেছে।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন আফ্রিকান-আমেরিকান স্টাডিজের পরিচালক জাফারি সিনক্লেয়ার অ্যালেন বলেন, ‘রাজনীতিই এর মূল চালিকাশক্তি, এটি কেবল একটি কারণ নয়।’
তিনি সতর্ক করে জানান, এই কাটছাঁট গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.