আপনি পড়ছেন

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরোনো তদন্তের নথি প্রকাশ ঠেকাতে একটি মার্কিন ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে থাকা এসব নথি প্রকাশ না করতে বা আটকে রাখতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তদন্ত নথি প্রকাশ ঠেকাতে মার্কিন আদালতে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু

টিনুবুর আইনি দলে রয়েছেন ক্রিস্টোফার ডব্লিউ কারমাইকেল, ভিক্টর পি হেন্ডারসন এবং ওলুওলে ও আফোলাবি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় ১৬ পৃষ্ঠার একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। মার্কিন স্বচ্ছতা কর্মী অ্যারন গ্রিনস্প্যানের একটি অনুরোধের বিরোধিতা করে এই আবেদন করা হয়। গ্রিনস্প্যান মার্কিন বিচার বিভাগ, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) কাছে থাকা নথিগুলো প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন।

টিনুবুর বিরুদ্ধে পুরোনো তদন্তের নথি চেয়ে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্ট (এফওআইএ) বা তথ্য অধিকার আইনে মামলা করেন গ্রিনস্প্যান। এসব নথির মধ্যে টিনুবু সংক্রান্ত এফবিআইয়ের সম্পূর্ণ ফাইল এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যকার এফবিআই ফর্ম ৩০২-এর সাক্ষাৎকারের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টিনুবুর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার বাজেয়াপ্ত করার একটি দেওয়ানি মামলার রেকর্ডও এর অন্তর্ভুক্ত।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিনুবু। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনুরোধ করা নথিগুলো প্রকাশ করা হলে তা টিনুবুর গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। তারা দাবি করেন, এর আগে বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রক্রিয়ায় কিছু তথ্য প্রকাশ করার অর্থ এই নয় যে, কোনো কথিত অপরাধমূলক তদন্তের বিস্তারিত বা ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

আইনজীবীরা আদালতকে গ্রিনস্প্যানের সামারি জাজমেন্ট বা সংক্ষিপ্ত রায়ের প্রস্তাব খারিজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে এফবিআই এবং ডিইএ যেন নথিগুলো আটকে রাখতে পারে, সেই অনুমতি দেওয়ারও অনুরোধ করেন তারা।

টিনুবু সংক্রান্ত মার্কিন সরকারি নথি পেতে গ্রিনস্প্যানের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ ঘটনা এটি। ২০২২ ও ২০২৩ সালে গ্রিনস্প্যান এসব নথির জন্য আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শেষ এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের তদন্তের তথ্যও ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন জেলা বিচারক বেরিল হাওয়েল রায় দেন যে, এফবিআই এবং ডিইএ আর ‘গ্লোমার’ প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারবে না। এই প্রক্রিয়ার আওতায় সংস্থাগুলো কোনো নথির অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিশ্চিত বা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকে।

বিচারক হাওয়েল সংস্থাগুলোকে গ্রিনস্প্যানের অনুরোধের ভিত্তিতে তথ্য প্রক্রিয়া করার নির্দেশ দেন। তবে এই রায়ের অর্থ এমন নয় যে, টিনুবু মাদক পাচারের মতো কোনো অপরাধ করেছেন বা তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক সাজা হয়েছে। বরং এটি এফওআইএ-এর অধীনে সংস্থাগুলোর বাধ্যবাধকতা এবং অনুরোধ করা নথিগুলো আইনত আটকে রাখা যাবে কি না, সে সম্পর্কিত একটি রায়।

চলতি মাসের শুরুতে এফবিআই অনুরোধ করা নথির কিছু অংশ আটকে রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে ব্যক্তিগতভাবে এবং গোপনীয়তার সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চায়। সংস্থাটি জানায়, গোপনীয়তা, গোপন সূত্র, আইন প্রয়োগের কৌশল এবং এমন তথ্য যার প্রকাশ কোনো ব্যক্তির জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, তা এফওআইএ-এর ছাড়ের আওতায় সুরক্ষিত।

এর আগে আনাদোলু জানিয়েছিল, নথি সংক্রান্ত আদালতের আদেশে সাড়া দিতে মার্কিন বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সময়ের আবেদনে টিনুবুও যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বিচারক হাওয়েল সরকারের চাওয়া পুরো সময় মঞ্জুর করতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯ আগস্ট আনাদোলু জানায়, সরকার ও টিনুবুকে জবাব দেওয়ার জন্য আদালত একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সর্বশেষ এই আবেদনের মাধ্যমে পুরোনো তদন্তের অতিরিক্ত নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না, সেই বিতর্কের কেন্দ্রে সরাসরি অবস্থান করছেন টিনুবু। এফবিআই এবং ডিইএ তাদের নথিগুলো আটকে রাখতে পারবে কি না, নাকি গ্রিনস্প্যানের চাওয়া আরও নথি প্রকাশ করতে হবে, আদালত এখন সেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.