ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করছে নেতানিয়াহু জোট
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। এতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সমর্থন রয়েছে বলে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত ‘গাজা চুক্তি আটকে গেছে: সংশ্লিষ্টদের কাছে কারণ স্পষ্ট—নেতানিয়াহু এবং নির্বাচন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি উল্লেখ করে, ট্রাম্পের গঠিত শান্তি পর্ষদের (বোর্ড অব পিস) সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকা নিয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যকার ফারাক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কেও।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও গাজা চুক্তি এখনো অকার্যকর অবস্থায় আটকে রয়েছে। অথচ ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসও বাকি নেই।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে হারেৎজ জানায়, শান্তি পর্ষদ এবং ইসরায়েলি প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সূত্রমতে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মার্কিন বোর্ডের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই সূত্র জানায়, তারা এটি আর লুকানোর চেষ্টাও করছেন না। তারা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, তারা শান্তি পর্ষদের সঙ্গে কাজ করবেন না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মূলত গত ৩০ জুলাই শান্তি পর্ষদের জারি করা ১৫ দফার একটি নথির প্রেক্ষিতে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই প্রস্তাবে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের নিরস্ত্রীকরণ, একটি জাতীয় ফিলিস্তিনি কমিটির হাতে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর এবং পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। তবে ৯ আগস্ট এই রূপরেখা প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলগুলোকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করতে হবে।
মার্কিন কূটনীতিকদের উদ্দেশে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা শান্তি রূপরেখার কঠোর সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এটি বাস্তবায়ন করলে সরকারের অবস্থান দেখে মনে হতে পারে তারা যেন ইসরায়েলকে বিকিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করার এই অবস্থানকে একটি প্রতিষ্ঠিত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে সূত্রটি। শান্তি পর্ষদ মনে করছে, এই অচলাবস্থা মূলত আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নেতানিয়াহুর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এতে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট বা নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জনমত জরিপে নেতানিয়াহু এবং তার লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা ক্রমেই নিম্নমুখী।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই নীতির অংশ হিসেবে গাজা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা টেকনোক্র্যাট কমিটির মাধ্যমে নতুন পুলিশ বাহিনীর জন্য নিয়োগ পাওয়া হাজার হাজার গাজাবাসীর বহির্গমন আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। প্রশিক্ষণের জন্য তাদের মিশরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। শান্তি পর্ষদ আশঙ্কা করছে, শেষ পর্যন্ত তাদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণ শেষে নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে তাদের আর গাজায় ফিরতে নাও দিতে পারে ইসরায়েল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথের নেতৃত্বে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা নামের এই টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বেসামরিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা পরিচালনা করা।
অপর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে হারেৎজ উল্লেখ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অতীতে তাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খুব কমই এখন অবশিষ্ট রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাজা যুদ্ধ অবসানে ২০ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, আংশিক ইসরায়েলি প্রত্যাহার, একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব ছিল। ওই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে পরিকল্পনার প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। হামাস প্রথম পর্বের শর্ত পূরণ করলেও ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সত্ত্বেও, গত নভেম্বরের ১৭ তারিখে গৃহীত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৮০৩-এর সমর্থনে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেন। দ্বিতীয় ধাপে বৃহত্তর পরিসরে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন ও নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। তবে ইসরায়েল এখনো গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে এবং সেনা প্রত্যাহারের আগেই ফিলিস্তিনি পক্ষগুলোকে নিরস্ত্র করার দাবিতে অনড় রয়েছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস ও আগ্রাসী অভিযান শুরু হয়, যা দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে। এই বর্বরোচিত ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.