নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১৩৪১
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে উপচে পড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার গর্ভবতী ও নতুন মায়েরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রোববার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও নেপাল-চীন সীমান্ত জুড়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭২ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৫৩১ জন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বত নামেও পরিচিত তাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫৩১ জন। নেপাল ও চীনের সরকারি হিসাব অনুসারে, নিখোঁজদের মধ্যে মোট ৮৫০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘরবাড়ি হারানো মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর উপযুক্ত স্থান, সময়মতো খাবার এবং প্রসবকালীন জটিলতায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মায়েরা আরও অভিযোগ করেছেন, সেখানে সিগারেটের ধোঁয়া, মদের গন্ধ এবং সর্বোপরি অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানির কারণে তারা এবং তাদের শিশুরা পেটের পীড়ায় ভুগছেন। এ ছাড়া এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের টিকাদানের কোনো ব্যবস্থা নেই।
পরিয়ার নামে পরিচয় প্রকাশ করতে চাওয়া এক নতুন মা বলেন, ‘আমরা সময়মতো খাবারও পাচ্ছি না। পেট ভরে খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত খাবারও জুটছে না।’
গত ২৬ আগস্ট সকালে নিজের শহর ত্রিশুলিতে বন্যা আঘাত হানলে পরিয়ার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসেন এবং বর্তমানে তিনি একটি আশ্রয়কেন্দ্রে এক ছাদের নিচে বহু অপরিচিত মানুষের সঙ্গে অবস্থান করছেন।
শর্মিলা শ্রেষ্ঠ নামের আরেক মা অভিযোগ করে বলেন, ‘শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ খাবার দেওয়া হচ্ছে না। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি করা সেই ভারী খাবারই আমরা ছোট শিশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি থাকার জন্য অন্তত একটি উপযুক্ত ও পরিচ্ছন্ন জায়গা পেতাম, তবে মানসিক শান্তি পেতাম।’
তিনি বর্তমানে তার দুই সন্তানকে নিয়ে একটি বিদ্যালয় ভবনে তৈরি করা জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের শ্রেণিকক্ষে রাত কাটাচ্ছেন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসওয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার ১৫টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৩০ জন গর্ভবতী নারী বসবাস করছেন।
সংস্থাটির অনুমান অনুযায়ী, আগামী এক মাসে প্রায় ৫০০ শিশুর জন্ম হতে পারে এবং এর মধ্যে প্রায় ৭৪ জন নারীর জরুরি প্রসূতি সেবার প্রয়োজন হতে পারে।
ত্রিশুলি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগটি বর্তমানে সংকটকালীন জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিভাগীয় প্রধান বাসন্তী পাঞ্চা জানান, বন্যার পর থেকে হাসপাতালে নয়টি প্রসব করানো হয়েছে, তবে অন্যান্য জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গর্ভকালীন অবস্থায় নারীরা জ্বর, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে আসছেন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল থাকায় অস্ত্রোপচারের জন্য জেনারেটরই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাসন্তী পাঞ্চা বলেন, ‘আগে এখান থেকে কাঠমান্ডু যেতে সড়কে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় লাগত। কিন্তু এখন ভূমিধসের কারণে সড়কপথে কত ঘণ্টা লাগবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.