আপনি পড়ছেন

জাতীয় রাজনীতিতে ১১-দলীয় ঐক্যের অংশীদার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের সমীকরণ থেকে বেরিয়ে আলাদাভাবে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এনসিপি।

স্থানীয় নির্বাচনে একলা পথেই এনসিপি, ঢাকার দুই সিটিতে আসিফ-পাটওয়ারীর লড়াই
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে লড়বেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে দল।

এর মধ্য দিয়ে গত মার্চে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ এবং উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে আসিফকে উত্তরে সরিয়ে দক্ষিণে তাঁর জায়গায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে এনসিপি একাধিক সমীক্ষা চালায়। সেখানে ভোটারদের সম্ভাব্য সমর্থন, প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের অবস্থান এবং নির্বাচনী সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সমীক্ষায় উত্তরে আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তুলনামূলক ভালো ফল করতে পারেন—এমন তথ্য উঠে আসে।

এরপর মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিও যাচাই করেন আসিফ মাহমুদ। সব দিক বিবেচনা করে তিনি ঢাকা উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্মতি দেন। অন্যদিকে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার সুবাদে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর যে রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও দক্ষিণে তাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরে দেওয়া হবে।

মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণের ভোটার ছিলেন। পরে তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। ফলে দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছেন এনসিপির নেতারা।

গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহীতে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেটে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে শুধু ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটের প্রার্থীদের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।

১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের অন্যতম শরিক এনসিপি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য শরিকদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী দেওয়ার পথে হাঁটছে না দলটি।

এনসিপি ও জামায়াতের দলীয় সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া বাস্তবিক অর্থেই জটিল। অতীতেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার তেমন নজির নেই। সম্প্রতি ১১-দলীয় ঐক্যের একটি প্রস্তুতি সভা এবং পরে এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসে।

জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলছে এনসিপি ও জামায়াত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে জোটগত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া সামনে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে শরিকদের প্রার্থীরা যাতে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়েও সমন্বয় রাখার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় ১১ দলের পক্ষ থেকে যৌথভাবে কর্মসূচি দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রচারের ধরন নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছে এনসিপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য না করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মকে সামনে আনা হবে।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক জোট অটুট থাকলেও স্থানীয় ভোটে এনসিপি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মসূচি নিয়েই মাঠে নামতে চাইছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল একসঙ্গে এগোলেও স্থানীয় নির্বাচনে তারা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা।

সব মিলিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এনসিপির জন্য একদিকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ, অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে ভোটের মাঠে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটিতে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে এনসিপির নতুন কৌশল রাজধানীর নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.