আপনি পড়ছেন

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের পথ অনুসরণের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। মঙ্গলবার তারা এই আহ্বান জানান।

ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের মতো নিষেধাজ্ঞা চায় ডেমোক্র্যাটরা
মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন

মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, এই ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো অবশেষে কথার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘অবশেষে কিছু ইউরোপীয় দেশ অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নিয়মিত আনুষ্ঠানিক নিন্দার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটি একটি পরিমিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও কংগ্রেস অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে এবং তা নেওয়া উচিত।’

ওয়াশিংটনকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিনিধি জোয়াকিন কাস্ত্রো। টেক্সাসের এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এক্সে লেখেন, ‘বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তটি সঠিক দিকের একটি পদক্ষেপ। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ হলো সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে চালানো এক কুৎসিত জমি দখল।’ তিনি বলেন, ‘শান্তি অর্জনে আন্তরিক যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের একই কাজ করা উচিত।’

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রতিনিধি রো খান্না। ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট এক্সে লেখেন, ‘ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবশ্যই একই কাজ করা উচিত এবং একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

প্রতিনিধি গ্রেগ ক্যাসার বলেন, দখলদারিত্ব অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সঠিক দিকের একটি অগ্রগতি। টেক্সাসের এই ডেমোক্র্যাট এক্সে লেখেন, ‘যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য মিত্র দেশ পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এটি সঠিক দিকের একটি পদক্ষেপ এবং দখলদারিত্ব অবসানের পথে অগ্রগতি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই একই কাজ করা উচিত।’

প্রতিনিধি চুই গার্সিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও গণহত্যার প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানান। ইলিনয়ের এই ডেমোক্র্যাট এক্সে লেখেন, ‘বসতিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আমি যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে একমত পোষণ করছি এবং তাদের প্রশংসা করছি।’ তিনি বলেন, ‘অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ অবাধে অব্যাহত রয়েছে, যা পুরো গ্রাম ধ্বংস করছে এবং এমনকি মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সরকারের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদক্ষেপটি নেওয়া উচিত এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও গণহত্যার প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে আরও অনেক কিছু করা দরকার।’

এর আগে মঙ্গলবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ঘোষণা করেন, ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের বিষয়টি উল্লেখ করে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—এই ১২টি দেশের সমন্বিত ঘোষণার অংশ হিসেবে এটি জানানো হয়। দেশগুলো অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য বাণিজ্যের ওপর জাতীয় বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাজ্যের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

এদিকে মঙ্গলবার মিয়ামিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, অবৈধ ইসরায়েলি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের পথ অনুসরণের কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই।

লন্ডনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রুবিও বলেন, যুক্তরাজ্য আগেই ওয়াশিংটনকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিল, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সিদ্ধান্তটি যুক্তরাজ্যের নিজস্ব। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। স্পষ্টতই আমাদের কোনো ঘোষণা নেই। এগুলো তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

কলম্বিয়া যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘স্পষ্টতই, যুক্তরাজ্য যা করেছে আমরা তা করতে যাচ্ছি না। আমরা তাদের ঘোষণা দেখেছি, তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.