আপনি পড়ছেন

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপসাগরীয় ওমান সাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালানো হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, গত দুই দিনে ইরান দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। খবর আল জাজিরার

৫ ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পাল্টা হামলা তেহরানের
ছবি- সংগৃহীত

এর জবাবে মঙ্গলবার ইরান জর্ডানে অবস্থিত আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে আরও দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই সংঘাতের প্রভাবে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠে যায়।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত দুই দিনে দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে। তবে যুদ্ধজাহাজটি সফলভাবে ইরানের হামলার চেষ্টা এড়িয়ে যায়। ওই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলা চালায়। সেন্টকমের ভাষ্য, ওমান সাগরে এমটি কাভিজ, এমটি চারমিনার, এমটি হরাইজন-১ ও এমটি রিসকো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে এমটি দেরিয়া নামের জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে অচল করে দেওয়া হয়।

খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

আইআরআইবি জানায়, হামলার পর জাহাজটির ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর জাস্কের কাছেও আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।

এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে আইআরজিসি। এসব হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী অঞ্চলটিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং এগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে আগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা দুটি ডেস্ট্রয়ারই এখানে বলা দুটি মার্কিন জাহাজ কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।

এক বিবৃতিতে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ফোরিত অংশ যেখানে পড়েছে, সেসব স্থান নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.