আপনি পড়ছেন

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে মিশর ও জর্ডান। বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি।

অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানাল মিশর ও জর্ডান
অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি অবৈধ বসতি

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, অবৈধ বসতি সংশ্লিষ্ট পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু সেবার ওপর বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রস্তাবগুলোর প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার প্রকাশ করে।

মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্যায় বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে।’

মিশর পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমান্তরেখা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

একই সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্য সীমিত করতে জাতীয় ও ইউরোপীয় পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়ে ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দেওয়া যৌথ বিবৃতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে কায়রো।

দেশ ১২টি হলো কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য।

অবৈধ বসতির বিরোধিতাকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশর।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদিও ব্রিটিশ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো মূলত অবৈধ ইসরায়েলি কার্যক্রম ও নীতিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, যা দখলদারিত্বকে মজবুত করে, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করে এবং অবিচারকে টিকিয়ে রাখে।

এক বিবৃতিতে সাফাদি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ব্রিটিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করায় তিনি কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন এবং সুইডেনকেও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, বেলজিয়াম এবং অন্যান্য দেশের ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

সাফাদি বলেন, অবৈধ বসতি স্থাপন, ইসরায়েলি দখলদারদের সহিংসতা, ভূমি দখল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং ফিলিস্তিনের অর্থনীতির ওপর বিধিনিষেধ কখনোই শান্তি বা নিরাপত্তা বয়ে আনবে না।

জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির একটিই পথ রয়েছে; আর তা হলো ফিলিস্তিনে বেআইনি দখলদারিত্বের অবসান এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাফাদি বলেন, শান্তির সম্ভাবনা এবং সমগ্র অঞ্চলের মানুষের নিরাপদে বাঁচার অধিকারকে ক্ষুণ্ণকারী ইসরায়েলি নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘উগ্র নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল সরকারকে প্রকৃত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’ এই অঞ্চলকে আরও যুদ্ধ ও দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ তাদের দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলদারদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে আন্তর্জাতিক চাপের অংশ হিসেবে এই বিবৃতিগুলো এসেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ অবৈধ বসতির সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বা কার্যকর করেছে।

মঙ্গলবার এর আগে, ১২টি পশ্চিমা দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধের ঘোষণা দেন। কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা আসে।

এর পাশাপাশি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার ঘোষণা করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে যুক্তরাজ্য।

ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালের শেষের দিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরে ১০৪টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং ১৬০টি কৃষি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।

প্যালেস্টাইন কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩ হাজার ৪৮৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি দখলদাররা।

কমিশন জানায়, এসব হামলায় ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ২৬টি বেদুইন ও রাখাল সম্প্রদায় সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ৪২টি নতুন অবৈধ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীর জুড়ে ১৯৪টি অবৈধ বসতি এবং ৪০০টি অবৈধ ফাঁড়িতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিম তীরে দখলদারদের আক্রমণ এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান তীব্র আকার ধারণ করেছে।

১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে বিবেচনা করলেও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.