আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ১২টি পশ্চিমা দেশের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ বুধবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এই পদক্ষেপকে তেল আবিবের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

১২ পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা: ইসরায়েলি অর্থনীতিতে বর্জনের শঙ্কা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ ১২টি জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ড দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করছে। একই সঙ্গে তারা অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলদারদের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ উল্লেখ করে, ‘ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কয়েক মাস ধরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ স্বাধীনভাবে বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করেছে। বিষয়টি এখন ইইউ-এর সামগ্রিক কূটনীতি থেকে সরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইনসভার ওপর বর্তেছে।’

ব্রাসেলসে কোনো সার্বিক সমঝোতা না হওয়ায় বিধিনিষেধের সমর্থক সরকারগুলো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে প্রতিটি দেশকে নিজস্ব আইন প্রণয়ন করতে হবে।

পত্রিকাটি জানায়, ‘নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যদিও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে ডাচ সরকারের এই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এটি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘স্পেনে ইতিমধ্যেই এ ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে, তবে পশ্চিম তীর থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি রপ্তানি সীমিত। লুক্সেমবার্গে একই ধরনের আইন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সুইডেনও তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।’ বেলজিয়াম একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনও আইন প্রণয়ন করেনি, যার অর্থ সেখানে বর্তমানে কোনো বিধিনিষেধ কার্যকর নেই।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানায়, এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থনকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে ইউরোপীয় আমদানিকারকরা সামগ্রিকভাবে সব ইসরায়েলি পণ্য কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন।

নেদারল্যান্ডসের নতুন বিধিমালার কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি জানায়, বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিকারকরা দেশটিতে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, কোনো পণ্য ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে তৈরি নাকি অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত—তা আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করার জটিলতায় না গিয়ে কিছু ডাচ প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি পণ্য কেনা পুরোপুরি পরিহার করতে পারে। তারা সতর্ক করে জানান, এটি কার্যত একটি নীরব ও ব্যাপক অর্থনৈতিক বর্জন ডেকে আনতে পারে।

পত্রিকাটি লিখেছে, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব আমদানিকারক পণ্য উৎপাদনের স্থান নির্ধারণের আইনি ঝুঁকি বা প্রশাসনিক বোঝা নিতে চান না, তারা সরাসরি ইসরায়েলি পণ্য কেনা বন্ধ করে দেবেন।’ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে এতে আরও বলা হয়, এর পরোক্ষ প্রভাব সামগ্রিকভাবে দেশটির অর্থনীতির ওপর মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

পত্রিকাটি উল্লেখ করে, ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থী দখলদারদের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপীয় সরকারগুলোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে দখলদারদের অনুপ্রবেশের দৃশ্য ও সহিংসতার প্রতিবেদনগুলো ইউরোপের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের উসকানিমূলক বক্তব্যও পশ্চিমা সমালোচনাকে তীব্র করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের দিক থেকে চরমপন্থী দখলদারদের সহিংসতা কার্যকরভাবে ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া একটি রাজনৈতিক ব্যুমেরাং তৈরি করেছে। পশ্চিম তীরের চরমপন্থীরা আসলে সেইসব ইউরোপীয় সরকার ও অধিকারকর্মীদের অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করছে যারা আগে থেকেই বসতি স্থাপনের বিরোধী।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর দখলদারদের অব্যাহত হামলা চলছে। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অনুপ্রবেশ এবং সাধারণ বাসিন্দা, যানবাহন ও ঘরবাড়িতে হামলা চালানো।

ইয়েদিওথ আহরোনোথ সতর্ক করে দিয়ে জানায়, এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব কেবল পশ্চিম তীরে সক্রিয় দখলদার ও কোম্পানিগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আমদানিকারকরা সব ইসরায়েলি পণ্যকেই বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত মনে করতে শুরু করলে পুরো ইসরায়েলি অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।

ইসরায়েলি পর্যবেক্ষকদের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনারও ভূমিকা ছিল, কারণ দেশটির লেবার সরকার তার রাজনৈতিক ভিত্তির একাংশের কাছ থেকে চাপের মুখে রয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই উদ্যোগের পেছনে ১২টি দেশকে একত্রিত করতে পেরেছে যুক্তরাজ্য।

ইসরায়েলে নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এই পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিছু ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতে, বসতি স্থাপনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী মিত্রদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে পারে এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তাদেরও এই সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

তা সত্ত্বেও পত্রিকাটি উপসংহারে উল্লেখ করে, যুক্তরাজ্য ও অন্য ১১টি পশ্চিমা দেশের নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি কূটনৈতিক ধাক্কাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সমন্বিত উদ্যোগ ঠেকাতে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.