আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অন্য অংশ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সতর্ক করেছে যে এসব নিষেধাজ্ঞা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিভক্ত ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের দৃশ্য

বৃহস্পতিবার আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জে স্ট্রিট ইসরায়েলের নির্বাহী পরিচালক নাদাভ তামির বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হবে।’

জে স্ট্রিট হলো মধ্য-বামপন্থী একটি ইহুদি অ্যাডভোকেসি সংস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী ইহুদি সংগঠনগুলোর অবস্থানের বিরোধিতা করে থাকে।

তামির বলেন, ‘ইওয়ান (E1) বসতি পরিকল্পনার আওতাধীন নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোনো কোম্পানি বা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে তা এ ধরনের প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী পক্ষগুলোকে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।’

ইওয়ান বসতি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ ১২টি দেশের একটি জোট যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নির্মিত ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করবে।

তামির আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।’

তিনি মন্তব্য করেন, এটি নিশ্চিত করে যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘সন্ত্রাসবাদ, ইহুদি সন্ত্রাসবাদ, জাতিগত নিধন এবং ভূখণ্ড দখল’-এর মতো যা কিছু ঘটছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তামির বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ নয়, কারণ অধিকৃত পশ্চিম তীর কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না।’ একই সঙ্গে তিনি পুরো বিশ্বকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।

নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা

তবে ইসরায়েলি অর্থনীতিবিদ ওমের মোয়াভ মনে করেন, বর্তমানে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাতে এটি কার্যকর হবে না।

মোয়াভ বলেন, ‘যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো যদি সত্যিই ইসরায়েলকে শাস্তি দিতে চায়, তবে তাদের সরাসরি পুরো ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।’

পশ্চিমা পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো ‘নিজেদের দেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে রাজনৈতিক খেলা খেলছে।’

নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উপায়

এদিকে হ্যারেটজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আব্রাহাম নভোগ্রোটস্কি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কিছু পণ্য ইসরায়েলের তথাকথিত ১৯৪৮ সালের সীমানার ভেতরের কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত হয়, যা পণ্যের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

নভোগ্রোটস্কি দাবি করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমিতে নির্মিত ইসরায়েলি বসতিতে বিশেষ অনুমতি নিয়ে কাজ করা ১৮ হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিক এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, ইউরোপের একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এড়াতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত কিছু পণ্য ১৯৪৮ সালের সীমানার ভেতরে উৎপাদিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

বুধবার ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাসকেল কনফাভ্রেউক্স জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নির্মিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকে ফ্রান্স সমর্থন করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্য ১১টি দেশের সিদ্ধান্তটি একটি ‘স্বাগত জানানোর মতো অগ্রগতি, যদিও এটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।’

এর আগে ফাতাহর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শতায়েহ বলেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি দেশের পক্ষ থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

আনাদোলুর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শতায়েহ বলেন, ‘বর্তমানে প্রয়োজন বসতির পণ্য বর্জন থেকে সরে এসে বসতি প্রকল্প এবং এর পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইসরায়েল তৈরি করেছিল, রক্ষা করেছিল এবং সমর্থন জুগিয়েছিল, আজ তাদের সামনেই দেশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.