নাইন-ইলেভেনের ২৫ বছর: গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিনিরা। ছিনতাই করা বিমানের সাহায্যে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে সংঘটিত বর্বরোচিত হামলায় নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষকে শুক্রবার স্মরণ করা হবে। এই নৃশংস হামলার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আত্মমূল্যায়নের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হবে।

এই ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো একটি প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে, যারা সরাসরি ওই দিনটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিল কিংবা পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠেছে। এটি দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নিরাপত্তার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও গভীর পরিবর্তন এনে দেয়। তবে যাদের জীবন এই ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—নিহতদের পরিবার, প্রথম সাড়াদানকারী ও উদ্ধারকর্মী—তাদের কাছে এই দিনটি আড়াই দশক আগে হারানো স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দীর্ঘস্থায়ী শোকের প্রতীক।
ক্যারোলিন ওগোনোস্কির বাবা জন ছিলেন আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১১-এর ক্যাপ্টেন। বোস্টন থেকে উড্ডয়নের ৪৭ মিনিট পর বিমানটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আছড়ে পড়ে এবং বিমানের সব আরোহী নিহত হন।
৩৯ বছর বয়সী ওগোনোস্কি এ বছর তার প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং বাবার নামানুসারে তার নাম রেখেছেন জন। সম্প্রতি তিনি তার নবজাতককে বাবার সমাধিতে নিয়ে যান এবং শুক্রবার বোস্টনে আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নেবেন।
দুর্যোগ ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাকর্মী ওগোনোস্কি এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ বছর একটি নতুন দুঃখবোধ কাজ করছে যে তারা কখনো একে অপরকে জানতে পারবে না। আমার বাবা কখনো তার নাতিকে দেখতে পাবেন না এবং আমার ছেলেও কখনো তার দাদাকে চিনতে পারবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেদিন যা ঘটেছিল, ওই মানুষগুলো কারা ছিলেন, তারা কীভাবে বীরত্ব দেখিয়েছিলেন এবং কীভাবে আমাদের দেশ ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়েছিল—ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তা জানানো নিশ্চিত করা আমার বাবা এবং সেদিন হারানো সবার প্রতি আমাদের দায়িত্ব।’
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে নাইন-ইলেভেন স্মৃতিসৌধে আয়োজিত স্মরণসভায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হামলার সময় দায়িত্বে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ চারজন জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্ট অংশ নেবেন। সেখানে তারা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে আল-কায়েদা জঙ্গিদের ছিনতাই করা দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টাওয়ারে আঘাত হানার সময় এবং প্রতিটি টাওয়ার ধসে পড়ার মুহূর্তকে স্মরণ করে নীরবতা পালন করা হবে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জন এবং ১৯৯৩ সালের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বোমা হামলায় নিহত ছয়জনের নাম স্বজনেরা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনে এই দিবসটি পালন করবেন। এছাড়া পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে ওয়াশিংটনগামী চতুর্থ ছিনতাইকৃত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল।
২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে, যাদের বয়স হামলাটি প্রত্যক্ষভাবে মনে রাখার মতো নয়, কিন্তু তাদের জীবন এর প্রভাবে মৌলিকভাবে বদলে গেছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটেই তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু হয়, যার ফলে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গঠিত হয় এবং আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়। এর ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এক দশক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানে ভূমিকা রেখেছিল, যখন তিনি নতুন কোনো বিদেশি সংঘাতে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বর্তমান ইরান যুদ্ধের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
হামলার পরপরই মার্কিনিদের মধ্যে গভীর সংহতি, দেশপ্রেম এবং শোকের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছিল।
একই সঙ্গে মুসলিম আমেরিকান এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা তীব্র সামাজিক কুসংস্কার ও বিদ্বেষমূলক অপরাধের শিকার হন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, নাইন-ইলেভেনের ঘটনা আজও মুসলমানদের প্রতি সাধারণ মার্কিনিদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানিকে শুক্রবারের অনুষ্ঠানটি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কিছু রিপাবলিকান আহ্বান জানালেও তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নাইন-ইলেভেনের প্রাণহানি শুধু সেদিনের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তীতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করা বহু উদ্ধারকর্মী এবং আশেপাশের বাসিন্দারা বাতাসের বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান।
প্যাট্রিক হোয়ালেনের বাবা, যার নামও প্যাট্রিক ছিল, তিনি নিউইয়র্ক সিটির একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ছিলেন। হামলার পর তিনি সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করেন এবং ধ্বংসস্তূপ ও বিষাক্ত ধূলার মধ্যে কয়েক মাস ধরে গ্রাউন্ড জিরোতে নিয়োজিত ছিলেন। ২০২০ সালে তার কোলানজিওকার্সিনোমা ধরা পড়ে, যা বিষাক্ত পদার্থের কারণে হওয়া একটি বিরল ক্যানসার। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২২ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক স্মরণসভা শেষে ছোট হোয়ালেন বলেন, ‘সরকার তাকে বলেছিল এই বাতাস নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য নিরাপদ, কিন্তু স্পষ্টতই তা সত্য ছিল না।’
গ্রাউন্ড জিরোর বাতাস নিঃশ্বাস নেওয়ার উপযোগী—এমন তথ্য দিয়েছিল মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ)। সংস্থাটির সাবেক প্রশাসক ক্রিস্টিন টড হুইটম্যান ২০১৬ সালে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুঃখ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছিলেন, সে সময় তাদের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল।
১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ৩৪৩ জন সদস্য নিহত হন। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুসারে, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মীসহ আরো ৬০০ জনেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক সদস্য নাইন-ইলেভেন সংক্রান্ত অসুস্থতায় মারা গেছেন।
শুধু চলতি বছরেই এমন অসুস্থতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.